Dhaka, Bangladesh
    বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
    ২৩ Rabi' I, ১৪৪১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ২:৫০ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১২ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৬:৩০ অপরাহ্ণ
Facebook By Weblizar Powered By Weblizar

উপ সম্পাদকীয়

বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তাঁর করিয়াছে নারী অর্ধেক নর। বলেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ৮ মার্চ আন্তজার্তিক নারী দিবস। নারী শব্দটি চোখের সামনে আসলে প্রথমেই যাকে মনে পড়ে, হৃদয়ের ক্যানভাসে যার ছবি আকাঁ তিনি আমাদের সকলেরই একটি প্রিয় নাম ‘‘মা”। নারী মানে তিনি আমার চক্ষু শীতলকারী মা। নারী মানে সে আমার শ্রদ্ধা ও ¯েœহময়ী বোন। নারী মানে সে আমার জীবন সাথী। নারী মানে এক নতুন স্বপ্ন। নারী মানে নব এক বসুন্ধরা। যাকে ছাড়া মানবকুল থাকতো অপূর্ণ, অতৃপ্ত, অশান্ত ও দিশেহারা। নারী এবং তাকেই নিয়েই আজ কিছু কথা। যদি একটু পিছনে তাকাই তাহলে দেখি ইসলামপূর্ব পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্ম ও সভ্যতায় নারী ছিলো বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত। সম্মান, অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিলনা। শৈশবে পিতার অধিনে, যৌবনে স্বামীর অধিনে এবং বার্ধক্যে সন্তানদের অধিনে জীবনযাপন করতে হতো। নারীকে পাপের উৎস, অকেজো ও অসম্মান করে ফেলে দেয়া হয়েছিল জীবনের বিভিন্ন অঙ্গন থেকে। লজ্জার কারণ মনে করে মাটিতে দাফন করা হয়েছিল জীবন্ত নারীকে। সতিদাহে পুড়িয়ে ফেলা হতো মৃত স্বামীর সাথে। বেধে দেয়া হতো ঘোড়ার লেজের সাথে আর দ্রুত বেগে ঘোড়াকে হাকিঁয়ে জীবন্ত নারীর আর্তনাদে রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখে উল্লাস করতো সভ্যতা! এ করুণ অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলে মানবতার বন্ধু হযরত মুহাম্মদ (সা:)। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মান, দিয়েছে মর্যাদা, দিয়েছে অধিকার। নারীকে ব্যাক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তজার্তিক সকল ক্ষেত্রে ইসলাম নারীকে তারঁ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে কোনো বাধা দেয়নি। কন্যা হিসেবে নারীকে ইসলামই একমাত্র সৌভাগ্যের বিষয় বলে শুভ সংবাদ জানিয়েছে। স্ত্রী হিসেবে দেয়া হয়েছে সমঅধিকার। কুরআনের ভাষায়: স্ত্রীদেরও রয়েছে তেমনি অধিকার, যেমন অধিকার রয়েছে তাদের উপর স্বামীদের এবং তা সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। বিবাহ বন্ধনে সম্মানসরুপ উপহার হিসেবে নারীকে মহর প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, তোমরা নারীদের সন্তুষ্টভাবে তাদের মহর প্রদান করো। মা হিসেবে নারীকে দেয়া হয়েছে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার অধিকার। হাদীসে রাসূল (সা:) বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। যে মায়ের সেবা- যতœ করলো সেই জান্নাত লাভ করলো। বিধাব ও তালাক প্রাপ্তাকে দেয়া হয়েছে পূর্ণবিবাহের অধিকার। নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের প্রতি সদাচরণের। অপমান, লাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত বিপদ থেকে রক্ষায় দেয়া হয়েছে পর্দার বিধান। আল্লাহর পছন্দনীয় একমাত্র জীবনব্যবস্থা ইসলাম নারীকে যে অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানের উচ্চতায় পৌছাল। তা ভূলে নারী সমাজ কি আবারও মানবরচিত মতবাদে পা দিয়ে জাহিলিয়াতে অন্ধকারে হারিয়ে যাবে?

লেখক: মো: আবু বকর সিদ্দিক।
শিক্ষার্থী: এম.এ. হাদিস। এম.এফ. ফিকহ বিভাগে অধ্যায়নরত।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মুসলিম বলেই ডান কানে দেয়া হয়েছিল আজান এবং বাম কানে দেয়া হয়েছিল ইকামাত। শুরু হলো জীবনের যাত্রা অতঃপর জীবনের গতিতে চলছে জীবন সময়ের স্রোত যাচ্ছে বয়ে। কেউ শিশুকাল পেরিয়ে, কেউ যৌবনকাল, আবার কেউ কেউ এসে পড়ে বৃদ্ধ বয়সে। অবশেষে সময় হয় জানাযা নামাজের,ততোক্ষণে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হয়। কুরআনের ভাষায়: “প্রত্যেকটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে অতঃপর তোমরা আমার কাছেই ফিরে আসবে।” [২৯ আল আনকাবূত: ৫৭], জানাযার নামায: জীবনের শেষ নামায পড়েছে অন্যরা এর পূর্বেও গত হয়েছে আজান ও ইকামাত তাও দিয়েছিল অন্যেরা। জানাযার নামায হচ্ছে মৃত এবং জীবিত সকলের জন্য দুয়ার আয়োজন জানাযার নামাজ ফরজে কিফায়া। যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। জানাযার নামায এর ফরজ কাজ ০২টি। যথা; ১. চারবার তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলা। ২. কিয়াম তথা দাড়িয়ে জানাযার নামাজ আদায় করা। জানাযার নামায এর সুন্নাত সমূহ ; ১. আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করা।২. নবীর (সাঃ) এর প্রতি দরুদ পাঠ করা। ৩. মৃতের জন্য দোয়া করা। জানাযার নামায পড়ার পদ্ধতি :
তিনটি কাতার পূর্ণ করা সুন্নাত। তবে অধিকও হতে পারে। মৃতকে কিবলার দিকে করে তার মাথা/সিনা বরাবর ইমাম দাড়াবে। এরপর ১ম তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত উঠাবে।  [সকল ইমাম একমত হাত উঠানোর ব্যাপারে।] এরপর সানা পড়া [যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।] বা সহিহ হাদিসের আলোকে ; আউযুবিল্লাহ…এবং বিসমিল্লাহ… পড়ে সূরা ফাতিহা পড়া সাথে আয়াত বা সূরা মিলানো। দলিল: রাসূল (সাঃ) জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন, তিনি বলেছেন, যে লোক সূরা ফাতিহা পড়েনি, তার নামায হয়নি। (সহিহ বুখারী: ৭৫৬),  অন্য হাদিসে, তালহা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর পেছনে জানাযার নামাজ আদায় করেছি তাতে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন এবং নামাজ শেষে বললেন, লোকেরা যেন জেনে নেয় যে জানাযা নামাযের এটাই পদ্ধতি। (সহিহ বুখারী: ১৩৩৫), এরপর ২য় তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে “প্রিয় নবীর প্রতি দরুদ” পাঠ করা। [প্রথম তাকবির এর পর বাকি ৩ তিন তাকবিরের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে ; হাত উঠানো যাবে না, কিছু ইমামের মতে হাদিসটি দূর্বল,  আর বিপরীত দিকে অনেকের মতে হাত উঠানো যাবে বরং তা সুন্নাত । সুতরাং, বির্তক না করাই ভালো।] এরপর ৩য় তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে “দোয়া” পাঠ করা। নিন্মে বাংলায়  দুইটি দুয়ার অনুবাদ দেয়া হলো: মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ -১.”হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং নর ও নারীদেরকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাদের আপনি জীবিত রাখবেন তাদেরকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন এবং যাদেরকে মৃত্যু দান করবেন তাদেরকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে তার (মৃত্যুতে ধৈয্যধারণের) সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তার (মৃত্যুর) পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।” [আবূ দাঊদ:৩২০১; তিরমিযী:১০২৪; নাসাঈ:১৯৮৫; ইবন মাজাহ, ১/৪৮০, নং ১৪৯৮; আহমাদ ২/৩৬৮, নং ৮৮০৯। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ১/২৫১।] দো‘আ-২.”হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন, তাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় রাখুন, তাকে মাফ করে দিন, তার মেহমানদারীকে মর্যাদাপূর্ণ করুন, তার প্রবেশস্থান কবরকে প্রশস্ত করে দিন। আর আপনি তাকে ধৌত করুন পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে, আপনি তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছেন। আর তাকে তার ঘরের পরিবর্তে উত্তম ঘর, তার পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার ও তার জোড়ের (স্ত্রী/স্বামীর) চেয়ে উত্তম জোড় প্রদান করুন। আর আপনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং তাকে কবরের আযাব [ও জাহান্নামের আযাব] থেকে রক্ষা করুন। “(মুসলিম ২/৬৬৩, নং- ৯৬৩), ইত্যাদি। এরপর ৪র্থ তাকবিরে “আল্লাহু আকবার” বলে “সালাম” ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা। (সালাম ফিরানোর পরে এবং দাফন সম্পন্ন করার পূর্বে আর কোনো দুয়া/ মুনাজাত নেই)। “দাফন সম্পন্ন করার পর মৃতের জন্য দুয়া করা”।

লেখক: মো: আবু বকর সিদ্দিক।
এম.এ. হাদিস বিভাগ (ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।),
এম.এ ফিকহ বিভাগে অধ্যায়ণরত।

ড. বদিউল আলম মজুমদার

সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। এ ঘোষণা আমাদেরকে আশাবাদী করেছে যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সব দলকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও শঙ্কা থেকে যায়- নির্বাচনটি কি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে? এর ফলাফল কি গ্রহণযোগ্য হবে?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার পথে অনেকগুলো প্রর্বতপ্রমাণ বাধা রয়েছে। প্রথম বাধা হল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।

আমরা দেখেছি যে, গত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে সরকার তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘরছাড়া করেছে, যাতে তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে না পারে। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘খুলনা মডেল’র নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি এ ধরনের দমন-পীড়ন ও হয়রানিতে নতুনমাত্রা যুক্ত হয়েছে। যুক্ত হয়েছে গায়েবি মামলা, যা কোনো সভ্যসমাজে ঘটে না। অভিযোগ উঠেছে যে- প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তর ছাড়িয়ে এবার গ্রেফতার বিরোধী দলের চতুর্থ স্তরের নেতাকর্মী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কিছুদিন আগে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার এক সহকর্মীকে বলেছেন যে, নির্বাচনের সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঠিকানা হবে হয় কারাগার, না হয় নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৪২৯টি। আসামির সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ জন। অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৪ জন। এ সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজার ৫১৩ জন।

দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে মামলার তালিকাও জমা দিয়েছে বিএনপি। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা মামলাগুলো স্থগিত হয় এবং যারা এসব মামলায় কারাগারে আছে, তারা যেন জামিনে মুক্তি পান, যাতে তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

পুলিশের বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা এখন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয় উদ্ঘাটনে নিয়োজিত হয়েছে। এটি নিয়ে নাকি পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন লুকোচুরি খেলছে (প্রথম আলো, ১৯ নভেম্বর ২০১৮)। আশা করি, কমিশন দ্রুত পুলিশের সব ধরনের বাড়াবাড়ির অবসান ঘটাবে এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার বন্ধ করবে।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে দ্বিতীয় বাধা হল সংসদ বহাল থাকা। সংবিধান আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যদেরকে ‘আইন প্রণয়নের ক্ষমতা’ প্রদান করলেও, সংবিধান এবং উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে তারা স্থানীয় উন্নয়নেই বেশি মনোযোগী। আর স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে তারা স্থানীয়ভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

অনেক এলাকায় সংসদ সদস্যের অনুমতি ছাড়া তাদের নির্বাচনী এলাকায় এমনকি গাছের পাতাও নড়ে না। তাই সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে নির্বাচনী মাঠ অসমতলই থেকে যাবে, কারণ সংসদ সদস্যদের পক্ষে অতি সহজেই নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করা সম্ভব হবে। তাদেরকে নির্বাচন প্রভাবিত না করার কথা বলা হলেও তারা যে তা শুনবেন, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনতে পারত, যে অঙ্গীকার কমিশন করেছিলও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমিশন ২০০৮ সালে প্রণীত, যখন সংসদ বহাল ছিল না, আচরণবিধিই মূলত বহাল রাখল। একটি সময়োপযোগী আচরণবিধি প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের এ ব্যর্থতার ফলে নির্বাচনী মাঠ অসমতলই থেকে যাবে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা সমসুযোগ থেকে বঞ্চিতই থাকবেন।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হল নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন গঠিত।

নির্বাচনের সময়ে কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বর্তমান কমিশন গত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সে ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও কমিশনের ভূমিকা বহুলাংশে প্রশ্নবিদ্ধই রয়ে গেছে।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তফসিল ঘোষণার পর তাদের গ্রেফতার হওয়া ৪৭২ জন নেতাকর্মীর তালিকা কমিশনকে দেয়া হয়েছে (প্রথম আলো, ১৬ নভেম্বর ২০১৮)। এখন দেখার বিষয় কমিশন এ তালিকা নিয়ে কী করে!

সম্প্রতি আরেকটি ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন নেতাকমীরা মিছিল ও শোডাউন করে ঢাকা মহানগরের একাংশকে অচল করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে, যাতে কমিশন কোনো বাধা প্রদান করেনি। এ প্রক্রিয়ায় দুই প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার কারণে দু’জন ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার পর ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে বলে আমরা শুনিনি। এ ছাড়া একজনকে গ্রেফতার করে ১২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন বেরিয়েছে।

তবে বিএনপির মনোনয়নপত্র কেনা শুরু হওয়ার পর কমিশন পুলিশকে চিঠি দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করে। পরবর্তী সময়ে গত ৯ নভেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে এবং সংঘর্ষকালীন কয়েকজন হেলমেটধারীকে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর এবং একজনকে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিতে দেখা যায়।

এরপর পুলিশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের এবং ৬৫ জনকে গ্রেফতার করে ৩৮ জনকে রিমান্ডে নিয়েছে (প্রথম আলো, ১৫ নভেম্বর ২০১৮)। এখন দেখার বিষয় নির্বাচন কমিশন নির্মোহভাবে তদন্ত করে সত্যিকারের দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি প্রদান এবং পুলিশের অসম আচরণের প্রতিকার করবে কিনা।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তফসিল ঘোষণার আগে সরকার অনেক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেছে, যেসব ব্যক্তি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তাই নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদেরকে বদলি করা আবশ্যক। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে আশা করি কমিশন এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেবে।

কমিশনের আরও কিছু বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া জরুরি। প্রথম বিষয়টি হল গণমাধ্যমের জন্য প্রণীত আচরণবিধির পরিবর্তন। বর্তমান আচরণবিধি অনুযায়ী গণমাধ্যমের কর্মীরা সামান্য সময়ের জন্য নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, কিন্তু তারা কোনো ছবি তুলতে পারবেন না এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু প্রকাশও করতে পারবেন না।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, গণমাধ্যম কর্মীরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না, বরং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা কমিশনের সহায়ক শক্তি। তারা নির্বাচনের দিনে কমিশনের চোখ-কান তথা পর্যবেক্ষক হতে পারে। তাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে গণমাধ্যম কর্মীদের আস্থায় নেয়া এবং তাদের নির্বাচন সম্পর্কিত রিপোর্টিংয়ের ওপর বাধানিষেধ অপসারণ আবশ্যক।

আরও আবশ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষদের আসার ও তাদের অবস্থানের সময়সীমা ও পর্যবেক্ষণের ওপর সব অযৌক্তিক বাধানিষেধের অবসান। এ ছাড়াও রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং একটি এক্সপার্ট প্যানেল দ্বারা নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন ছাড়া আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাও আবশ্যক।

কমিশন নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ সেনাবাহিনী ব্যারাকে থাকবে এবং রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে তলব করবে। এভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা কোনো ভূমিকাই রাখতে পারবে না, কারণ নির্বাচনে কারচুপি দ্রুত সংঘটিত হয় এবং তা প্রতিহত করার জন্য সেনাবাহিনীকে টহলে থাকতে হবে। তাই সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে না রেখে টহলে রাখার জন্য কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

শোনা যাচ্ছে যে, নির্বাচনের কয়েক দিন আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হবে। একইভাবে নির্বাচনের দিনে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হবে। সম্প্রতি স্কাইপি বন্ধ করার মাধ্যমে এ সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই সুবিবেচনাপ্রসূত হবে না। আমরা কমিশনকে এসব সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করব।

আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া অতি জরুরি। তা না হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করার কারণে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে। এর পাশাপাশি আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে হলি আর্টিজানের জঘন্য আত্মঘাতী হত্যাকারীদের মতো বিপদগামী হয়ে যেতে পারে, যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এমন অবস্থা কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

লেখক : সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক

ডা.মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

পাইলস রোগটির সাথে আমরা হাজার বছর ধরে পরিচিতি। এহা একপ্রকার ধাতুগত পীড়া। মলদ্বারের ভিতরে বা বাহিরের চার পাশের শিরা গুলো ফুলে মটরদানা কিংবা অঙ্গুরের মত কিংবা ছাগলের বাটের মত ছোট ছোট গলি বা টিউমার হলে তাকে অর্শ বা হেমোরয়েড বলে। অর্শ প্রধানত দুই প্রকার যথা অন্তর্বলি ও বহির্বলি এইছাড়া এক প্রকার অর্শকে মিশ্র বলি বলে। যেটি বাহির উভয় স্থানে থাকে।

বয়স- ৩০-৬০ বৎসর বয়সের ভেতর এই রোগের প্রকোপ সব চেয়ে বেশী। ২০ বৎসর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটা দেখা যায় না। পাইলস সনাক্ত করা খুব সহজ কাজ নয়। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কেবল যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাইলস সনাক্ত করতে পারেন।

কখনো কখনো টয়লেটে বসিয়ে কোথ দিতে হয়ে। আমাদের কাছে বিভিন্ন রোগী আসিয়া বলে আমার পাইলস। তখন রোগী লক্ষণ দেখি বুঝি পাই এনাল ফিশার, পলিপ অথবা ফিস্টুলা অর্থাৎ মলদ্বারের যে কোন রোগকে সবাই পাইলস হিসেবে জানেন। কিন্তু এইখানে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। এই রোগ মহিলাদের চেয়েও পুরুষের কিছুটা বেশী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বৎসর বয়সের উর্দ্ধে জনসংখ্যার ৫০% বা কোন না কোন সময় পাইলস এর সমস্যায় ভোগেন।

কারনঃ নানা কারনে অর্শ হতে পারে। প্রধান করান লিভারের মধ্যে এবং ধমনীতে রক্তাধিক্য হলে অর্শ হয়। এছাড়া অলস প্রকৃতির লোকের সারা দিন বসে বসে থাকা, ঘিয়ে ভাজা বা অধিক মসলা যুক্ত রান্না খাওয়া, কষ্ট বধ্যতার জন্য অধিক কোথ দিয়ে পায়খানা করা। ঘন ঘন জোলাপের ঔষুধ খাওয়া মলদ্বারের ক্রিরমির অত্যচারের জন্য বার বার খোটলানোর কামরিপুর উত্তেজনার কারনে এবং মাতা, পিতার এই রোগ থাকলে সন্তানের ও অর্শ হয়।

লক্ষণঃ সময় সময় র্বলী গুলি চুলকায়। ধপ ধপ করে ব্যাথা করে এবং জ্বালাপোড়া করে। কাটা পোটার মত বেদনা এবং কোমরে বেদনা। মল ত্যাগকালে র্বলী থেকে রক্তস্রাব হয়। কোন কোন সময় রক্তস্রাব হয় না।
আনুষাঙ্গিক চিকিৎসাঃ তিনটি বিষয়ে লক্ষ রাখিতে হইবে। ১। আহার ও ভ্রমন সম্ভন্দে নিয়ম পালন । ২। নিয়মিত পায়খানা পরিস্কার হওয়ার ব্যবস্থা। ৩) অর্শের স্থানটিকে ভালোভাবে পরিস্কার রাখা।

অ্যালোপ্যাথীক চিকিৎসাঃ অর্শে কোন সুচিকিৎসা হয় না। অস্ত্রে প্রসার ছাড়া কোন গতি নাই। কিন্তু তাতেও রোগ নিমূল হইয়া সারিতে পারে না। অতএব প্রথম থেকেই অর্গানন অনুসরনকারী হোমিও প্যাথিতে চিকিৎসা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যে পুরাতন রোগ বীজ রোগীর দেহে বর্তমান থাকিয়া এই রোগের সৃষ্টি করিয়াছে সেই ধাতুগত দোষ দুরি করনার্থ উপযুক্ত সোরাদোষ ঔষুধ সেবন না করিলে শুধু অস্ত্রপচার বা অ্যালোপ্যাথী ঔষুধ খাইলে কোন লাভ হইবে না।

হোমিও প্রতিবিধানঃ রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। আবার অনেক চিকিৎসক বের হইছে নিজেদেরকে অর্শ ভগন্দেরের চিকিৎসক বলে থাকে। কিন্তু ঐ সব ডাক্তার বাবুরা রোগীদেরকে ইনজেকশানের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আবার মলম বা ক্রিম লাগাইতে রোগীদেরকে বলে। যেটা সাময়িক নিরাময়। কিন্তু পরে জঠিল আকার ধারন করে।

এইরকম অনেক চিকিৎসক চট্টগ্রাম ফেনীসহ অনেক জায়গায় এইসব রোগীর অপচিকিৎসা দিয়ে থাকে। এইজন্য যেসব ডাক্তার নিজেদেরকে হানেমানের উত্তশ্বরী বলে থাকে তারা যেন রোগীর সঠিক লক্ষন নির্বাচন করতে পারলে তাহালে হোমিওতে অর্শরোগীর চিকিৎসা আল্লাহর রহমতে দেওয়া সম্ভব।

প্রাথমিক ভাবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকগন যেসব মেডিসিন নির্বাচন করে থাকে যেমন: এলুমিনা, এলো, আর্সেনিক এল, এন্টিম ক্রোড, এমন কার্ব, নার্কস ভোম, সালফার, ইস্কিউর্লাস হিপ, কলিন সোনিয়া, এসিডি নাইট্রেকাম ইত্যাদি সহ আরো অনেক ঔষুধ লক্ষনের উপর আসতে পারে । এইসব ঔষুধ গুলা বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক ছাড়া নিজে নিজে ব্যবহার করলে রোগ আরোও জঠিল আকারে পৌছতে পারে।

লেখক
ডাঃ মুহাম্মাদ মাহতাব হোসেন মাজেদ
স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি
কো-চেয়ারম্যান হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
ইমেইলঃdrmazed96@gmail.com
মোবাইল: ০১৮২২-৮৬৯৩৮৯

ছোট্ট একটা শহর ফেনী বৈদেশিক অর্থ উপার্জন ও ভৌগলিক কারণে ঢাকা চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অবস্থানে অবস্থিত হওয়ার ধরুন এই শহর গুরুত্ব অপরিসীম। পুরানো ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের অবস্থান বর্তমান ফেনী শহরের ভিতর দিয়ে ছিল বিধায় , ফেনী শহরের মূল সড়ক গুলির দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক ও জনপদ বিভাগের,নতুন হাইওয়ে সড়ক তৈরি হওয়ার পরে ও এখন পর্যন্ত সড়ক গুলি সড়ক ও জনপদ বিভাগের হাতেই রয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের জন্য নতুন করে সড়ক তৈরি করা হয়েছে,এবং শহরের আকার ও কর্ম কান্ড অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর পাশাপাশি পৌর এলাকার আয়োতন এবং কর্মকান্ড অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌরসভার কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে শহরেউ ভিতর অবস্থিত কলেজ রোড ,স্টার লাইন থেকে লাল পোল পর্যন্ত সড়ক এবং হাসপাতাল থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়ক ও ট্রাংক রোড থেকে মহিপাল পর্যন্ত সড়ক এবং মেজর সালাউদ্দিন বীরউত্তম স্কুল থেকে হাসপাতাল রোড এই সড়ক গুলি সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাজ থেকে এর মুল স্বত্বা পরিবর্তন করে ফেনী পৌর কতৃপক্ষ নিয়ে নেওয়া উচিত। এই স্বত্বা পরিবর্তনের ফলে ফেনী পৌরসভা একাই যে কোন অবকাঠামো মুলক উন্নয়নের সমন্বয় করতে পারবে এবং পৌর কতৃপক্ষ একটি দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন ইচ্ছে ও চেষ্টা থাকলে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে ফেনী পৌরসভা নাগরিকদের তাদের নাগরিক জীবনের সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং পৌরসভার সম্মানিত মেয়র মহাদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আগামী ৪ জানুয়ারি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উড়ালসেতু উদ্বোধন করবেন।সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ফেনীতে উড়ালসেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
দর্শক-শ্রোতাদের উল্লাসে মাতাতে শুক্রবার ঝিনাইদহে আসার কথা ছিল নগরবাউল খ্যাত জেমসের। শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ‘স্বাধীনতা কনসার্টে’ এর আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি। এ কারণে কনসার্ট ৭ দিন পিছিয়েছে আয়োজকরা। খুব শিগগিরই নতুন তারিখ জানানো হবে।

স্থানীয় আশিক মিউজিক ক্লাব এই কনসার্টের আয়োজন করে। আয়োজকদের পক্ষে নৃত্যালয় একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আসিফ উল ইসলাম পাপ্পু বলেন, কনসার্টের সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহুর্তে প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ কারণে ৭ দিন পর আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে।

এদিকে জেমস ভক্তরা বলছেন, ঝিনাইদহ জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্থানে যাত্রা, হাউজি, লটারির জুয়া অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তবে জেমসের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিল্পীর কনসার্টে অনুমতি না দেওয়া রহস্যজনক।

মেনু
সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৭
logo
শিরোনাম :
‘রাখাইনে সেনাদের হাতে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত’ সাকিব জাদুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে অস্ট্রেলিয়া জুটি ভাংলেন তাইজুল গর্ভপাত করানোর অভিযোগে ক্রিকেটার মারুফের বিরুদ্ধে মামলা বঙ্গরাণী জন্ম দিল প্রথম সন্তান
হোম » জাতীয়
ইউনিসেফে চাকরি দেয়ার নামে সক্রিয় প্রতারক চক্র
কোটি টাকা নিয়ে চম্পট * সাত প্রতারক চিহ্নিত * তিনজন গ্রেফতার
সিরাজুল ইসলামপ্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৭, ০৫:২০:৫৭

অঅ-অ+
ইউনাইটেড ন্যাশন্স ইন্টারন্যাশনাল চিল্ড্রেন ইমারজেন্সি ফান্ডে (ইউনিসেফ) চাকরি দেয়ার নামে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারণা করছে একটি চক্র। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও ভুয়া নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চক্রটি সারা দেশে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে।

বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার নাম করে চক্রটি শিক্ষিত বেকারদের কাছ থেকে দুই থেকে সাড়ে পঁাচ লাখ পর্যন্ত টাকা নেয়। তাদের এক মাসের ট্রেনিং দেয়া হয়। টেনিং ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। ট্রেনিং শেষে নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। সম্প্রতি চক্রটির বিরুদ্ধে ২৬ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ চক্রের সাতজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমান যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতার তিনজনকে বুধবার আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি জানান, বুধবার রাতে তিন প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৪৭), আলমগীর (৪৬) ও মামুনুর রশিদ (৩৯)। এ চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন∏ শফিকুল ইসলাম (৪০), আবু নাসের ইমতিয়াজ (৫০), শাহাদাত হোসেন (৪২) ও ইউসুফ পাটোয়ারী (৪৩)।

এসআই বিলাল আল আজাদ বলেন, প্রতারকরা জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং নাসের সিকিউরিটি অ্যান্ড সোর্সিং লিমিটেডের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে লোক সংগ্রহ করে। সম্প্রতি ২৬ জনের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। ইউনিসেফে সুপারভাইজার ও ম্যাসেঞ্জার পদে তাদের চাকরি দেয়ার কথা ছিল। সুপারভাইজার পদে ৩২ হাজার ৪০০ এবং ম্যাসেঞ্জার পদে ২৮ হাজার ২০০ টাকা বেতন দেখিয়ে তাদের নিয়োগপত্র দেয়া হয়। কাউকে আবার ইউনিসেফের লগোসংবলিত পরিচয়পত্রও দেয়া হয়। চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারিংসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেয়ার পর ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকার গ্রিন লাইন ট্রেনিং সেন্টারে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন ২০০৯ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছে। জামালপুরে প্রতিষ্ঠানটির ১০টি শাখা রয়েছে। সিলেটে শাখা খুলে ঋণ দেয়ার নাম করে ২০০০ হাজার গ্রাহক তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর মে মাসে জামানতের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করে অফিস গুটিয়ে সটকে পড়ে চক্রটি। জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মালিক হলেন শফিকুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক হলেন রফিকুল ইসলাম ও মার্কেটিং ডিরেক্টর হলেন আলমগীর। উত্তর যাত্রাবাড়ী কলাপট্টির প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ও আলমগীরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। শফিকুল পলাতক।

সূত্র জানায়, চাকরি দেয়ার সময় আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাসের সিকিউরিটি অ্যান্ড সোর্সিং লিমিটেডের নাম উলে্লখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া হয়- উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাড়ি। কিন্তু পুলিশ সেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পায়নি। এসআই আজাদ জানান, ইউনিসেফে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে নিউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ সংশি্লষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশকে তারা জানান, প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন যুগান্তরকে জানান, সুপারভাইজার পদে চাকরি দেয়ার নাম করে জামানত হিসেবে ২ মে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয় প্রতারকরা। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, তার বন্ধু জয়ন্ত মসিদের কাছ থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার এবং গোপাল মসিদের কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের আইডি কার্ড দেয়াসহ ট্রেনিং করানো হয়।

ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ জানান, সুপারভাইজার পদে চাকরি দেয়ার নাম করে ২ মে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেয়া হয়। একই দিনে তার বন্ধু রবিউল করিমকে ম্যাসেঞ্জার পদে চাকরি দেয়ার নামে দুই লাখ টাকা এবং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেয়ার নামে মারুফ হাসানের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেয়া হয়।

তাদের ২৬ জনকে এক সঙ্গে ট্রেনিং দেয়া হয়। জামানত ছাড়াও প্রত্যেকের কাছ থেকে ট্রেনিং ফি নেয়া হয়। কিন্তু কাউকে তারা চাকরি দেয়নি।

39
0
0
0
0

শীর্ষ খবর
সর্বশেষ খবর
জাতীয়
ইউনিসেফে চাকরি দেয়ার নামে সক্রিয় প্রতারক চক্র
নিয়মিত বেতন-ভাতা দাবি করায় ৪০ জনকে ছাঁটাই!
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যা
পশ্চিমবঙ্গে দুই মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা
রাজনীতি
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা কাল
‘অন্যরকম’ সরকারের আশঙ্কা বি চৌধুরীর
খেলা
প্রথম দিনে সাফল্য বোলারদের
নতুন রেকর্ড গড়লেন তামিম-সাকিব
সব খবর
জাতীয় বিভাগের অারও খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট
ছুরি-চাপতি শানাতে ঘুমহীন কামারশালা
মুক্তামণির পরবর্তী অস্ত্রোপচার কাল
ইউনিসেফে চাকরি দেয়ার নামে সক্রিয় প্রতারক চক্র
নিয়মিত বেতন-ভাতা দাবি করায় ৪০ জনকে ছাঁটাই!
অনুপ্রবেশের আশায় সীমান্তে হাজার হাজার রোহিঙ্গা
রাজনৈতিক দলের মত ছাড়াই চূড়ান্ত করছে ইসি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Mobile App
E-mail: jugantor.mail@gmail.com
Developed By : orangebd

উপরে close

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মাহাম্মদ ছায়েদুল হক আর নেই। শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় বঙ্গবন্ধু শখ মুজিব মডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত আগস্ট মাস থকে প্রাস্টেট গ্লান্ডের সংক্রমণে ভুগছিলেন মন্ত্রী ছায়েদুল। ১৩ ডিসেম্বর থেকে তিনি বিএসএমএমইউ  হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ-সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক ছলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রখে গছেন। তার ছলে এ এস এম রায়হানুল হক ঢাকা মডিকেলে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ছায়েদুল হক ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থকে মাট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত স দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন।
ছায়েদুল হক ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ১৯৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো নাসিরনগর থকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি। তার সময়েই মৎস্য ও ছাগল-উৎপাদনে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে চতুর্থস্থান অর্জন করে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নাসিরনগরের ব্যাপক উন্নয়নে স্মরণীয় অবদান রখেছেন।

অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে পাকিস্তানের কবল থকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করা বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের দিক থকে দশটিকে ছাড়িয়ে গছে। মাথাপিছু আয়, মাথাপিছু উৎপাদন, শিল্পোন্নয়ন, সরকারের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি ব্যবহার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নের বহু সূচকে এখন বাংলাদেশ থকে পিছিয়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে গত কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমের অর্থনীতিবিদরা বিশ্বের বিস্ময় বলছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ের কথা বলেছিলেন বিশ্বের বরেণ্য অর্থনীতিবিদরা। তাদের আশঙ্কা ছিল বাংলাদেশ তার বিশাল জনগোষ্ঠীর খাবারের সংস্থানটি করতে পারবে না। কিন্তু তারা য জনসংখ্যা দখে এই আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, সই জনসংখ্যা বড়ে প্রায় আড়াই গুণ হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে এদের খাবার যাগাড় করতে কানো সমস্যাতেই পড়তে হচ্ছে না।
বিশ্বে এখন সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ছাগল উৎপাদনেও বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে আছে সাত নম্বরে।
স্বাধীনতার পর থকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিন গুণেরও বশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বড়েছে দশ গুণ। দুই যুগ আগেও দশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। স্বাধীনতার পর দশে প্রতি হক্টর জমিতে দুই টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হক্টর প্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বশি। তাছাড়া হক্টরপ্রতি ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বে গড় ৫ দশমিক ১২ টন। বাংলাদেশে এ হার ৬ দশমিক ৯৮ টন। খাদ্যশস্যে প্রতি হক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন উৎপাদন করে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারতের জন্ম। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববাংলা পড়ে পাকিস্তানে। এই অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনের ফলেই মূলত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা সফল হয়। কিন্তু ২৪ বছরের শাসনে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব অংশের প্রতি নানা বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন থকে শুরু করে প্রতিটি সূচকেই পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ পূর্ব অংশের চয়ে হয়ে উঠে সমৃদ্ধ। আর এর প্রতিক্রিয়ায় ফুঁসে উঠে বাঙালিরা। আর ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে অর্জন করে স্বাধীনতা।
এমনিতেই পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের অবকাঠামো যুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতি, বিধ্বস্ত হয় সড়ক ও রল যাগাযোগ, প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে অর্থনীতির চাকা। এমনকি যুদ্ধ চলাকালে সারাদেশে স্বাভাবিক ফসলও ফলাতে পারেনি কৃষক। দশের রিজার্ভে ছিল না কানো টাকা।
এই অবস্থায় যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ আদৌ টিকে থাকতে পারবে না বলেই মত দিয়েছিলেন পশ্চিমা অর্থনীতিবিদরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হনরি কিসিঞ্জার স সময় বাংলাদেশকে তুলনা করেছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র সঙ্গে। তিনি বুঝাতে চয়েছিলেন, এই ঝুড়িতে যা কিছু দয়া হবে, তার সবই নিচ দিয়ে পড়ে যাবে।
যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের যাত্রাটাও সমৃন ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সনা শাসক আর রাজনীতিতে এর কুপ্রভাবের বলয় থকে এখনও বর হওয়া যায়নি পুরোপুরি। তার সঙ্গে ছিল বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে বিরুদ্ধ পরিবেশেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বে আলোচিত এক দশ। স্বাধীনতার পর শূন্য থকে শুরু করা বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩ তম অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশের এই ঘুরে দাঁড়ানোকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ প্যারাডক্স।
পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ যটি ১৯৭১ সালে বাংলার চয়ে অনেক সমৃদ্ধ ছিল, সই অংশ এখন পিছিয়ে গছে। এই পিছিয়ে পড়া আরও বাড়ছে দিনে দিনে। অর্থাৎ বাংলাদেশ য হারে আগাচ্ছে, পাকিস্তান তাল মলাতে পারছে না তার সঙ্গে।
দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বে উদাহরণ হয়ে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর পর দশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সবশেষ হিসাবে এটি এখন ২৪.৩ শতাংশ। আর অতি দারিদ্র্যের হার এখন ১২ শতাংশের কিছু বশি। গত এক দশক ধরে বছরে দুই শতাংশ হারে কমছে দারিদ্র্য।
এই দিক থকে পাকিস্তান এখন যাজন যাজন দূরত্বে অবস্থান করছে। স দশের প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে এখন ৪০ জনই দরিদ্র।
সবশষ জাতিসংঘ মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ থকে আট ধাপ পছনে পাকিস্তান। বাংলাদেশের অবস্থান যখানে ১৩৯ তম, সখানে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৭।
মাথাপিছু মাট দশজ উৎপাদনের দিক দিয়েও এগিয়ে গছে বাংলাদেশ। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৩৮ ডলার, পাকিস্তানে সই জিডিপি এক হাজার ৪৭০ ডলার।  একই সাথে বড়েছে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ও। পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় এখন এক হাজার ৩৮০ ডলার।  সখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬০২ ডলার। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৩ বিলিয়ন ডলার যা পাকিস্তান থকে ১২ বিলিয়ন ডলার বশি।
বাংলাদেশে দশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসায় দশের অর্থনীতিতে বাড়ছে শিল্পের অবদান। এখানেও বাংলাদেশ থকে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান।  পাকিস্তানের মাট দশজ উৎপাদন বা জিডিপির শতকরা ২৪ শতাংশ আসে শিল্পখাত থকে।  অথচ বাংলাদেশের মাট দশজ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ আসে শিল্পখাত থকে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষত্রেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের চয়ে এগিয়ে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের চয়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল বশি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো হয়ে গছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৬ কাটি। কিন্তু পাকিস্তানের জনসংখ্যা এখন প্রায় ২০ কাটি। দুই বছর আগে হিসাবে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭, পাকিস্তানে এটা ২.২। বাংলাদেশে মা প্রতি সন্তানের গড় সংখ্যা ২.১৪। কিন্তু পাকিস্তানে এই সংখ্যা ৩.৫৫টি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাত  বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তান এ উপমহাদেশে অনেক ক্ষত্রে এগিয়ে ছিল। তবে যুদ্ধে বিশাল পরাজয় ও বিভিন্ন রাজনৈতক সমস্যার কারণে পাকিস্তান আজ বাংলাদেশে থকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।  যুদ্ধে পরাজয়, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, বিশেষ করে জঙ্গিবাদের কারণে পাকিস্তান বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।  বাংলাদেশের এভাবে এগিয়ে যাওয়ার পছনে একটি বড় বিষয় কাজ করেছে, সটি হল অসাম্প্রদায়িকতা।  য দশে সাম্প্রদায়িকতা যত বশি  স দশ ততটা নিচে পড়ে থাকে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক বিধায় বাংলাদেশ পাকিস্তান থকে এগিয়ে যতে পরেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অর্থনীতিতে সক্রিয় মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা খুবই ইতিবাচক।’
পোশাক রপ্তানির দিক থকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়।  বিশ্বে মাট পাশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ এখন ৬.৪ শতাংশ।  অর্থাৎ বিশ্ববাজারে যতটুকু পাশাক দরকার পড়ে, তার ৬.৪ শতাংশ আসে বাংলাদেশ থকে।  ২০১৬ সালে পাশাক খাত থকে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৮ বিলিয়ন ডলার।  সখানে পাকিস্তানের আয় ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার।  যা বাংলাদেশের পাশাক খাতের আয়ের অর্ধেকেরও কম। এই পাশাক শিল্প বাংলাদেশের নারী কর্মসংস্থানের একটি গুরত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের পাশাক খাতে পুরুষের চয়ে নারী শ্রমিকই বশি। পাশাক খাতের ৪০ লাখ শ্রমিকের মধ্যে ২৬ লাখ নারী শ্রমিক আর সখানে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ১৪ লাখ।  বাংলাদেশের প্রতি ১০০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর মধ্যে ৪৪ জন কান না কান পশায় নিযুক্ত। আর পাকিস্তানে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২৫ জন বিভিন্ন পশায় আছেন। নারীর কর্মসংস্থানে বাংলাদেশ এক বিরল দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের নারীদের আয় এখন পাকিস্তান থকেও বশি। বাংলাদেশের একজন নারী বছরে গড়ে আয় করেন এক লাখ ৯২ হাজার ৬৯৯ টাকা। সখানে পাকিস্তানের একজন নারী আয় করেন এক লাখ ২১ হাজার ৩৩৮ টাকা।
পাকিস্তান থকে বাংলাদেশের মানুষ গড়ে ৬ বছর বশি বাঁচে।  পাকিস্তানের একজন মানুষের গড় আয়ু ৬৬ বছর, সখানে বাংলাদেশের একজন মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। প্রতি এক লাখ শিশুর মধ্যে বাংলাদেশে যখানে ৩১ শিশু মারা যায়, সখানে পাকিস্তানে এই সংখ্যা ৬৭, অর্থাৎ বাংলাদেশের দ্বিগুণেরও বশি।
বাংলাদেশকে বলা হতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের দশ। বন্যা-ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী। পাকিস্তান সভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দশ না হলেও, দশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশ থকে বশি।  প্রাকৃতিক দুযোর্গের কারণে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশে গৃহহীন ৭১ জন।  অথচ পাকিস্তানে এই গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দুই হাজার ৭৪২ জন বশি। যা দুর্যোগ মাকাবেলায় দশটির দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।
মোবাইল ফানের নিরব বিপ্লব দখছে বাংলাদেশ। দশের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৮৪ জনই মাবাইল ফান ব্যবহার করে।  সখানে পাকিস্তানে মাবাইল ফান ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি ১০০ জনে ৬৭ জন।  বাংলাদেশ যখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছে, সখানে পাকিস্তানে এমন রূপকল্প অনুপস্থিত।
বাংলাদেশের চয়ে পাকিস্তানে শিক্ষায় বিনিয়োগ বশি। কিন্ত বাংলাদেশ স্বাক্ষরতার হার পাকিস্তানের চয়ে বশি। বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে স্বাক্ষরতার হার যখানে শতকরা ৭২ ভাগ, সখানে পাকিস্তানে স্বাক্ষরতার হার শতকার ৫৯ ভাগ।
শুধু অর্থনীতির এসব হিসাবই নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থকেও পাকিস্তান বাংলাদেশের চয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দশটিতে আজ পর্যন্ত কানো সরকারই তার ময়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। দশটির সরকারের ওপর সনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও নানা সমালোচনা আছে। কিন্তু বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৬ বছরের সামরিক শাসনের জঞ্জাল পরিয়ে এখন একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির জন্য চষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালের পর থকে এখন পর্যন্ত তিনটি সরকার তার পূর্ণ ময়ার পূরণ করেছে।
এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলতে হয়। বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠন বা জঙ্গিবাদের থাবায় বিপর্যস্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়শ হয় রক্তাক্ত হামলা। বাংলাদেশেও সম্প্রতি জঙ্গিবাদীরা মাথা তুলে দাঁড়াতে চষ্টা করলেও তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু পাকিস্তাকে জঙ্গিবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে গছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাদের ভাবমূর্তি ভালো নয় মাটে।
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ সূচকের কথা বললে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তানের চয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। গ্লাবাল টররিজম ইনডেক্স ২০১৭ অনুযায়ী পাকিস্তান বিপজ্জনক রাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ২২ নম্বরে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশের অবস্থান আরো পরে থাকত।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সান্তনু মজুমদার  বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমরা সামাজিক জায়গা থকে অনেক এগিয়েছি। পাকিস্তান ৭১ এর পর জাতিগত সংহতি সমস্যার সমাধান তা দূরের কথা এখনো ধারে কাছে যতে পারেনি। আমরা এসব সমস্যার আশানুরুপ সমাধান করতে না পারলেও পাকিস্তান থকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যতে পরেছি। আগামী কয়েক বছর পর দখা যাবে মিডিয়া পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে ভারত কিংবা অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্র এর সাথে বাংলাদেশকে তুলনা হবে।

সংবাদদাতা : “সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গিকার” এ স্লোগানকে সামনে রেখে ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন সানারাইজ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের গণিপুর তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে রবিবার বিকেলে পবিত্র কোরআন শরীফ বিতরন অনুষ্ঠান মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সানারাইজ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক এম শরীফ ভূঞার সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ-প্রধান শিক্ষক জহিরুল আলম, তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনজুরুল হক, সহকারি প্রধান শিক্ষক মাওলানা ওছমান গনি, ছন্দের যাদুকর সম্পাদক কবি সজীব ওছমান, আজকের সময় কাতার প্রতিনিধি হারুনুর রশীদ মৃধা, রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, শিক্ষক হাফেজ ইউছুপ, মনিরুল হক, এবায়দুল হক, শফিকুর রহমান, আবদুল কাদের প্রমুখ। শেষে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের হাতে কোরআন শরীফ উপহার তুলে দেন।

ইস্তাম্বুল: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্ক হবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বুধবার রাজধানী আঙ্কারাতে টার্কিশ ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (টিওবিবি) এর এক সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান উচ্চ সুদের হারকে অর্থনৈতিক শোষণের মূল হাতিয়ার বলে অভিহিত করে বলেন, ‘সর্বোপরি উচ্চ সুদের হার সম্পর্কে অভিযোগ আছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটা আমার স্মরণে আছে। কারণ আমি উচ্চ সুদকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখছি। এটা মুনাফা নয় বরং শোষণের হাতিয়ার।’ তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে আনার জন্য এরদোগান স্পষ্টভাষী হয়ে উঠেছেন। এরদোগান বলেন,তিনি তাদের প্রত্যেকের পাশে দাঁড়াতে চান যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য উৎপাদন এবং দেশের উন্নতি করা। ‘আমরা সব ধরনের সহায়তা তাদের প্রদান করি যারা কাজ,উৎপাদন এবং আয় করতে আগ্রহী এবং নিজেদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে চায়। আমরা সবসময় তুর্কি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করি যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় থাকে’, তিনি বলেন। পৃথকভাবে এরদোগান পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে,২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্কের জনসংখ্যা ৯ কোটি ছাড়িয়ে যাবে এবং এটি জনসংখ্যার দেশগুলির উপরে অবস্থিত থাকবে এবং এটি তার ক্ষমতা বজায় রাখবে। তিনি বলেন,‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা বিশ্বের শীর্ষ দশম অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের জনসংখ্যাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে কাজে লাগাবো’। তিনি আরো বলেন, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে তুরস্কের তরুণ, শিক্ষিত এবং গতিশীল প্রাণবন্ত জনসংখ্যা দেশটির অর্থনীতিক ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে যেটা অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে । এরদোগান বলেন যে, ২০৩৫ সালের মধ্যে তুরস্কের বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হবে যার মাথাপিছু আয় ২৫,০০০ ডালার ছাড়িয়ে যাবে এবং তুরস্ক সম্পদশালী দেশে পরিণত হবে যেখানে আয়-বৈষম্য কমে যাবে। তিনি আরো বলেন, এটা দেশকে একতাবদ্ধ করবে। চাকরির ক্ষেত্র তৈরি এবং ব্যবসার জন্য ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে তার আহ্বানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তুর্কি ব্যবসায়ী সংস্থা চেনাশোনা ইতিবাচকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে,১.১৭ মিলিয়ন মানুষ কর্মসংস্থান তালিকাতে যুক্ত করেছে। উপরন্তু এরদোগান জোর যে, তাদের উচিত তুরস্ককে তথ্য প্রযুক্তি, শক্তি, পরিবহন, সরবরাহ এবং বাণিজ্যের জন্য সারাবিশ্বের কেন্দ্র পরিণত করা। ‘আমরা টিওবিবি সম্প্রদায়ের মাধ্যমে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তুর্কি গাড়ি তৈরি করব। গাড়ী তৈরির প্রয়োজনীয় জনবল ও গাড়ির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তুরস্কের আছে’, তিনি বলেন। আনাদোলু নিউজ এজেন্সি অবলম্বনে Share1 মন্তব্য মতামত দিন Name Email Address Comment পাঠিয়ে দিন ইউরোপ পাতার আরো খবরবৃটেনের রাজপথে ৩০০০ জঙ্গি নজরদারিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনলন্ডন: বৃটেনের রাজপথে ৩০০০ জঙ্গি। তাদেরকে নজরদারি করতে গোয়েন্দা ও সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশকে হিমশি . . . বিস্তারিত ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে এরদোগানের ব্রাসেলস যাত্রা আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনব্রাসেলস: প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ন্যাটো সম্মেলনে যোগদান করতে ব্রাসেলস গেছেন। মঙ্গলব . . . বিস্তারিত ম্যানচেস্টারে হামলা: ট্রাম্পের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বার্তা দেয়ার রাস্তা প্রশস্ত করল হামলাকারী ব্রিটিশ নাগরিক, নিহতদের স্মরণে ম্যানচেস্টারে মানুষের ঢল ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলো কী ধরনের ছিল ম্যানচেস্টারে কনসার্টে হামলার দায় স্বীকার আইএসের ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলায় তুরস্কের নিন্দা ‘বোন ফোন ধরছে না, প্লিজ, আমাকে সাহায্য করুন’ ম্যানচেস্টার হামলায় বিশ্ব জুড়ে নিন্দা ম্যানচেস্টারে পপ কনসার্টে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে পপ কনসার্টে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ নিহত ১৯ এরদোগান পুনরায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির প্রধান নির্বাচিত তুরস্ক সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদের প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াই করছে: এরদোগান মার্কিন বিনিয়োগকারীদেরকে তুরস্কে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান এরদোগানের ‘সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’ সিরিয়ার যুদ্ধ কবলিত শিশুদের জন্য ঘর দেবে তুরস্ক ‘চূড়ান্ত রায়ের আগে গুপ্তচর কুলভূষণের ফাঁসি নয়’ নতুন সংবিধানের অধীনে তুর্কি এমপিরা জুডিশিয়াল বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত গ্রীসের উচিত অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে হস্তান্তর করা: এরদোগান বৃটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুই অসম যুগল যুক্তরাষ্ট্র সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের নতুন সূচনা: এরদোগান ইতালিতে ৪৮০ শরণার্থী ও ৭টি লাশ উদ্ধার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন এমানুয়েল ম্যাক্রন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার বাচ্চার যেসব ছবি ভাইরাল তুরস্কে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে জার্মান সাংবাদিক আটক নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করল তুরস্ক সত্যিকারের মিত্র হতে সন্ত্রাসীদের ত্যাগ করে আঙ্কারার পক্ষ নিন: এরদোগান কুর্দি বাহিনীকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা তুরস্কের স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সমস্যার একমাত্র সমাধান: এরদোগান ‘ব্রিটেনের সব থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফ্রান্স, তাই হাত মিলিয়ে কাজ করতে চাই’

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য আরো দুই দিন সময় চেয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, শনিবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। রমজান মাসে বিকাল পাঁচটা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সিএসজি স্টেশন বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে এক সংবাদ সম্নেলনে এ কথা জানান তিনি। গত কয়েকদিন ধরে দুঃসহ গরমের পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং ভোগাচ্ছে দেশবাসীকে। খোদ রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় দিনে এমনকি গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। মফস্বল বা গ্রাম এলাকায় পরিস্থিতি আরো নাজুক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে নানা পদক্ষেপ নেয়। গত আট বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা চারগুণ হয়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। সর্বোচ্চ ক্ষমতার ৮০ শতাংশ উৎপাদন করলেও প্রতিদিন ১২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা অত নয়। এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ খাতের এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, গ্যাস সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত কয়েক দিনে একে একে বন্ধ হয়েছে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত রোববার বন্ধ কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১৬টি। বুধবার এই সংখ্যায় যোগ হয় আরও চারটি কেন্দ্র। এই ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ থাকায় লোডশেডিংয়ের প্রকোপ বেড়েছে। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। পিক আওয়ারে বর্তমানে চাহিদা সাগে নয় হাজার মেগাওয়াটের মত। তবে বুধবার উৎপাদন হয়েছে আট হাজার ৬১৫ মেগাওয়াটের মত। আবার উৎপাদনের পুরোটা ব্যবহার করতে পারে না গ্রাহক। কারণ, পরিবহন পর্যায়ে কিছু বিদ্যুৎ নষ্ট হয়ে যায়। আবার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থাপনায় সার্বক্ষণিক সরবরাহ দিতে হয়। এ কারণে অন্যত্র লোডশেডিং বেড়ে যায়। গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সেদিনও তিনি চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেন।

.নকিয়ার তিনটি মডেলের স্মার্টফোন ও নকিয়া ৩৩১০ ফিচার ফোন। ছবি: মিন্টু হোসেননকিয়ার তিনটি মডেলের স্মার্টফোন ও নকিয়া ৩৩১০ ফিচার ফোন। ছবি: মিন্টু হোসেননকিয়াপ্রেমীদের জন্য সুখবর দিল ফিনল্যান্ডের মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল। ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ব্র্যান্ড লাইসেন্স কিনে নকিয়া ফোনসেট বাজারে ছেড়েছে এইচএমডি গ্লোবাল। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ফোনটির ঘোষণা এলেও সবার আগে বাংলাদেশের ক্রেতাদের কাছে নকিয়া ফোন পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছে এইচএমডি গ্লোবাল। আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এইচএমডি গ্লোবালের কর্মকর্তারা।

.রাজধানীর একটি হোটেলে নকিয়ার মোবাইল ফোন উদ্বোধন করা হয়। ছবি: মিন্টু হোসেনরাজধানীর একটি হোটেলে নকিয়ার মোবাইল ফোন উদ্বোধন করা হয়। ছবি: মিন্টু হোসেনঅনুষ্ঠানে প্রথম আলোর এক প্রশ্নের জবারে এইচএমডির কর্মকর্তারা বলেন, নকিয়ার কাছ থেকে শুধু ব্র্যান্ড লাইসেন্স কিনেছেন তাঁরা। এ ছাড়া ফোনের নকশা থেকে শুরু করে সবদিক তাঁরাই দেখেছেন। স্মার্টফোনগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে খাঁটি অ্যান্ড্রয়েড—নোগাট। এর ফলে প্রতিটি ফোনে প্রতি মাসে গুগলের নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বাজারে ক্রেতাদের কাছে সব ধরনের মার্কেটিং চ্যানেল, মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করে নকিয়া ফোন বাজারজাত করা হবে। এতে সারা দেশে ফোনটি পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে নকিয়ার কর্মকর্তারা বলেন, আগামী মাস থেকে বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোন সিরিজের তিনটি মডেলের নকিয়া মোবাইল বিক্রি করা হবে। এগুলো হচ্ছে—নকিয়া ৩, নকিয়া ৫ ও নকিয়া ৬। এ ছাড়া ফিচার ফোনের মধ্যে আছে নকিয়া ৩৩১০ মডেল।

.রাজধানীর একটি হোটেলে নকিয়ার মোবাইল ফোন উদ্বোধন করা হয়। ছবি: মিন্টু হোসেনরাজধানীর একটি হোটেলে নকিয়ার মোবাইল ফোন উদ্বোধন করা হয়। ছবি: মিন্টু হোসেনফোনগুলোর দাম হবে—
নকিয়া ৩: ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
নকিয়া ৫: ১৫ হাজার ৯৯০ টাকা।
নকিয়া ৬: ২২ হাজার ৫০০ টাকা।
নকিয়া ৩৩১০: ৪ হাজার ২৫০ টাকা।

নকিয়া ৩:
নকিয়া ৩–এর কাঠামো অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি। ৫ দশমিক ২ ইঞ্চি আইপিএস এইচডি ডিসপ্লে ল্যামিনেটেড করা। সামনে ও পেছনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা আছে এতে। বাজারে চারটি রঙে পাওয়া যাবে এই স্মার্টফোন।

নকিয়া ৫:
নকিয়া ৫ মডেলটি হাতে ধরতে বিশেষ সুবিধা । একটি একক ৬০০০ সিরিজ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি, যা দেখতে বালিশের কভারের মতো। এতে কোয়ালকম অ্যাড্রেনো ৫০৫ গ্রাফিকস প্রসেসর এবং কোয়ালকম®স্ন্যাপড্রাগন™ ৪৩০ মোবাইল চিপসেট রয়েছে। বাজারে নকিয়া ৫ স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে চারটি রঙে।

নকিয়ার ক্ল্যাসিক ৩৩১০ মডেলের নতুন সংস্করণ প্রদর্শন করা হয়। ছবি: মিন্টু হোসেননকিয়ার ক্ল্যাসিক ৩৩১০ মডেলের নতুন সংস্করণ প্রদর্শন করা হয়। ছবি: মিন্টু হোসেননকিয়া ৬:
নকিয়া ৬ স্মার্টফোন নকশা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। স্মার্টফোনটির অডিও সিস্টেম যেমন দারুণ, তেমনি এটির সাড়ে ৫ ইঞ্চির ফুল এইচডি স্ক্রিনে ছবি এবং ভিডিও বেশ ঝকঝকে ও নিখুঁত দেখাবে। এটির ইউনিবডি বা উপরিকাঠামো একটি একক ৬০০০ সিরিজ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। এর স্মার্ট অডিও অ্যাম্পলিফায়ারে দুটি স্পিকার রয়েছে। ফলে এতে শব্দ বেশ নিখুঁত ও স্পষ্ট হবে। এতে আছে ডলবি অ্যাটমস। ফলে স্মার্টফোনটি ব্যবহারকারীদের দারুণ বিনোদন দেবে। কালো, রুপালি, নীল ও ধূসর—এই চারটি রঙে পাওয়া যাবে এই সেট।

নকিয়া ৩৩১০:
নকিয়া ৩৩১০ মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফিচার ফোন। এই মডেলটিকে নতুন নকশায় বাজারে এনেছে এইচএমডি গ্লোবাল। এতে ২২ ঘণ্টা টক টাইম বা ব্যাটারিতে একবার চার্জ দিলে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত কথা বলা যায়। ক্ল্যাসিক এ ফোনকে হালকা-পাতলা ও রঙিন করে তুলেছে নকিয়া। চারটি রঙে বাজারে আসছে নকিয়া ৩৩১০।

নকিয়ার সংবাদ সম্মেলনে এইচএমডি গ্লোবালের এশিয়া প্যাসিফিক, থাইল্যান্ড ও ইমার্জিং এশিয়ার আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক সন্দ্বীপ গুপ্তা, যোগাযোগ পরিচালক ফ্ল্যানগাও, পণ্য বিপণন বিভাগের প্রধান হেনরি মাতিল্লা, সাউথইস্ট এশিয়া এমার্জিং মার্কেটেস এর বিপণন প্রধান আরিফ ইফতেখার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষের জন্য সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির ৯০০ বাস প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঈদে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হবে বলে মন্ত্রী জানান।
আজ বুধবার সকালে কমলাপুর বাস ডিপোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটির চেক বিতরণ ও ঈদসেবা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বিআরটিসির তিনটি পর্যবেক্ষণ দল কাজ করবে। এ ছাড়া সড়কে বাসের কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট চারটি কারিগরি দল গঠন করা হবে। এই দলগুলো টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর এবং কাঁচপুর সেতু এলাকায় অবস্থান নেবে।

ওবায়দুল কাদের জানান, ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিআরটিসির জন্য ৬০০ বাস ও ৫০০ ট্রাক সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাস ও ট্রাকের বহর ঢাকায় আসতে শুরু করবে।

সরকারি সেবা সংস্থা বিআরটিসির অনিয়ম সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিআরটিসি বহু বছর ধরে দুর্নাম নিয়ে চলছে। এখানকার কর্মকর্তাদের ঠিকমতো দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত খুব কম। ডিপো ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে অনেক অনিয়মের অভিযোগ আছে। এমন অভিযোগও আসে, যেগুলো খুব কষ্টদায়ক। আর কত টাকা দরকার আপনাদের? জনগণের টাকা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবেন না। বিআরটিসির সুনাম ফিরিয়ে আনুন। দুর্নীতি, অনিয়ম বন্ধ করুন। বিআরটিসির জন্য সরকার শুধু দেবে, আর কিছুই পাবে না, এটা কেমন করে হয়?’

এর আগে মন্ত্রী বিআরটিসির অবসরপ্রাপ্ত ২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুকূলে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির বকেয়া পাওনার চেক তুলে দেন। এ সময় বক্তব্য দেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান।

মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই/মায়ের চেয়ে নাম যে মধুর, ত্রিভুবনে নাই। আজ বিশ্ব মা দিবস। মায়ের কাছে সন্তানের ঋণ পরিশোধের দিন। ভক্তি-শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়ে তার আশীর্বাদ পাওয়ার দিন।
কালে কালে একটি কথাই চিরায়ত সত্যিতে পরিণত হয়েছে, আর সেটি হচ্ছে- পৃথিবীতে মা শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর দ্বিতীয়টি নেই। সন্তানের কাছে সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছেন তার মা। মায়ের গর্ভে সন্তান যেমন রক্ত শুষে নিরাপদে ধীরে ধীরে বড় হয়, তেমনি জন্মের পরও তিল তিল করে মা-ই কেবল তার নাড়িছেঁড়া ধনকে তিলে তিলে বড় করে তোলেন আগামীর সম্ভাবনাময় একজন মানুষ হিসেবে।

মাকে ভালোবাসা আর তার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধার বিষয়টি পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইসলামে মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশতের কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মেও মাতৃভক্তি আর তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞান সবার ওপরে স্থান দেয়া হয়েছে। কবি-গীতি কবিরা অজস্র ছত্র রচনা করেছেন। বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রে আনা জারভিস নামের এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এ কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মায়েদের কর্মদিবসের সূচনা করেন। ১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে এ দিবসটি ঘটা করে পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। যদিও মাকে সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দেখাতে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে নেয়ার যুক্তি অনেকের কাছেই সেভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অনেকেই মনে করেন মাকে সম্মান দেখাতে, তাকে গভীরভাবে স্মরণ করতে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত আন্তর্জাতিক মা দিবসের গুরুত্ব রয়েছে। যে কারণে বিশেষত নাগরিক জীবনে দিনটি পালনের ক্ষেত্রে বেশি সাড়া মিলেছে কয়েক বছর ধরে।

ফেনী প্রতিনিধি, ১৪ মে, ২০১৭ : ফেনীতে মোটরসাইকেলে করে অভিনব কায়দায় প্রাচারকালে ৩৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই জনকে আটক করেছ র‌্যাব-৭। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম  মহাসড়কের  ফেনীর রামপুর রাস্থার মাথা নামকস্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি  মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

ফেনীস্থ র‌্যাাব-৭ এর স্কোয়াড্রন লিডার সাফায়েত জামিল ফাহিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ওই স্থানে সন্দেহজনক মোটরসাইকেল তল্লাশী করে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। এই সময় রোকন উদ্দিন সরকার (৩৫) ও আসাদুল ইসলাম আসাদ (২৩) নামে ২ মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাাব-৭।

 

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ৭টি কলেজ বাদে) ২০১৫ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষার ফল রবিবার প্রকাশ হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন মাসেই এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৮১.০৮%।

এ পরীক্ষায় ১লাখ ১৯হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৯৮হাজার ১২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রকাশিত ফল SMS এর মাধ্যমে যে কোন মোবাইল মেসেজ অপশনে গিয়ে nuh4 Roll লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd এবং www.nubd.info থেকে জানা যাবে।