Dhaka, Bangladesh
    বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
    ২৩ Rabi' I, ১৪৪১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ২:৫০ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১২ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৬:৩০ অপরাহ্ণ
Facebook By Weblizar Powered By Weblizar

জাতীয়


মিনহাজ হোসেন,
লন্ডনের বুকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ বাংলাদেশী আবৃত্তি শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবিদের সমম্বয়ে সৃষ্ট, কবিতা আবৃত্তির অনুশীলন ও সাংস্কৃতিক চর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম ” বর্নমালা পোয়েট্রি এ্যান্ড আর্টস”, ” আত্ব প্রকাশ করেছে।

ব্রিটেনের মাটিতে আবৃত্তি চর্চার প্রসার ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করতে এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়৷

সভায় উপস্থিত ছিলেন, উদ্যোগতা, আবৃত্তি শিল্পী ও কলামিষ্ট হাসিনা আক্তার, কবি ও অ্যাক্টিভিস্ট লিপি হালদার, আবৃত্তি শিল্পী ও কন্ঠশিল্পী মুহাম্মদ অনুপম রহমান, নৃত্য শিল্পী ইশরাত যামী কুমু, মঞ্চ অভিনেতা ও আবৃত্তি শিল্পী মাহমুদুল রিপেল, আবৃত্তি শিল্পী মাহমুদ জামান, কন্ঠশিল্পী আনিয়া যামী।

অচিরেই আবৃত্তির অনুশীলন ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে বিলেতের মুল ধারার সাথেও কাজের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন আয়োজনকে সামনে রেখে আংশিক সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে তাদের এই সভার আয়োজন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এ বছরেই অন্যান্য সদস্যদের কে সাথে নিয়ে অনুশীলনের পাশাপাশি সুদুর প্রসারী কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুশীলন, কর্মকান্ড ও সদস্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সদস্য বৃন্দরা।

পুর্ব লন্ডনের বাকারা রেস্টুরেন্টে গত ১৫ই মে, রাত ৮ঃ ৩০ মিনিটে এক ইফতার মাহফিল ও পরিচিতি সভার মাধ্যমে ” বর্নমালা পোয়েট্রি এ্যান্ড আর্টস” সংগঠনটি আত্বপ্রকাশ করে।

মিনহাজ হোসেন, বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দোয়েল কালচারাল অর্গানাইজেশন এন্ড দোয়েল একাডেমী, গ্রীস মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জসিম উদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্রীসের সাবেক ইমিগ্রেশন মিনিষ্টার ইয়ানী মুজালা। এসময় প্রধান অতিথি আয়োজকদের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন গ্রীস ও বাংলাদেশের সেঁতু বন্ধনে অসামান্য অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ দোয়েল কালচারাল অর্গানাইজেশন এন্ড দোয়েল একাডেমী, গ্রীসের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা চাই গ্রীসে আমাদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে দেশীয় কৃষ্টি সংস্কৃতির মধ্যে বড় করে তোলতে, এতে করে এই শিশুরাই বাংলাদেশকে বহি:বিশ্বে এগিয়ে নিবে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি, গ্রীসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ও সংগঠনের আরিফুর রহমান সিরাজ, আব্দুর রহিম, আ: রাজ্জাক টিটু, আব্দুল কুদ্দুস সিকদার, কামাল রহমান, ইকবাল হোসেন, কে এম আরিফ, বিথী খলিফা, শেখ শাহিন আক্তার ও নূর জাহান শিউলি প্রমূখ। সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন সহ দেশের প্রকৃত রূপ উপস্থাপনে বিদেশী অতিথি সহ উপস্থিত সকলেই মুগ্ধ করে তোলে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বিচারক ও আইনজীবীদের স্ব-স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য বিচারক ও আইনজীবী সমাজের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিচারক একা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। বিচারের সকল পর্যায়ে আদালতের আইনজীবীর সহায়তার প্রয়োজন হয়।

মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বঙ্গবন্ধু আমাদের উপহার দেন দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান। সংবিধানের অধীনে ১৮ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট তার যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনের সেই ক্ষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তার সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আইনের শাসন কায়েমের জন্যই জাতিকে এত তাড়াহুড়া করে একটি সংবিধান প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করেছি এবং বাংলাদেশের স্বাধীন মাটিতে সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সুপ্রিমকোর্ট ছাড়া জাতি চলতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য হতে এটা পরিষ্কার যে, আইনের শাসন এবং সুপ্রিমকোর্ট ছাড়া একটি জাতি অগ্রসর হতে পারে না।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, এখন আমাদের সামনে রয়েছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিমকোর্ট ও অধস্তন আদালতসমূহের দৃঢ় অবস্থান জনগণের মধ্যে আদালত সম্পর্কে গভীর আস্থার সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অধিকার সচেতন।

তিনি বলেন, এ দুইয়ের কারণে দেশের আদালতসমূহে মামলা দায়েরের পরিমাণ এখন আগের দশকের চেয়েও অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু যে হারে মামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সে হারে দেশে বিচারকের সংখ্যা বাড়েনি।

তিনি বলেন, বাড়েনি অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা। ফলে বিচারকদের মামলা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আমি অনেক ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। অধস্তন আদালতসমূহে মূল মামলার নিষ্পত্তি বৃদ্ধিকল্পে জামিন ও অন্তর্বর্তীকালীন বিষয়াবলি শুনানি দিবসের দ্বিতীয়ভাগে এবং মূল মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ দিবসের প্রথম ভাগে করার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্ট থেকে এই বিষয়ে একটি সার্কুলার ইস্যু করা হয়েছে। এর ফলে মূল মামলার নিষ্পত্তি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুপ্রিমকোর্টকে সংবিধান ১০৯ অনুচ্ছেদে যে ক্ষমতা প্রদান করেছে তদবুনিয়াদে সুপ্রিমকোর্ট থেকে সব সময় মনিটর করা হচ্ছে যেন অধস্তন আদালতসমূহ তাদের কর্মঘণ্টার সবটাই বিচারিক কাজে ব্যবহার করে এবং অনর্থক যেন মামলার শুনানি মুলতবি না করে।’

চলতি বছরের মামলার পরিসংখ্যান নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার উদ্যোগের ফলে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে উচ্চ ও অধস্তন আদালতসমূহে মোট দায়ের হওয়া ১৩,৭১,৪৫৬টি মামলার বিপরীতে ৮৮৬,২৯৬টি মামলা ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে মামলার ক্লিয়ারেন্স রেট ৬৪.৬২ শতাংশ।

তিনি বলেন, মাত্র ১৭০০ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ জুডিশিয়ারির জন্য এটি একটি মাইলফলক অর্জন বলে আমি মনে করি। হাইকোর্ট বিভাগে প্রতি বৃহস্পতিবার ১৪টি বেঞ্চে মিস মামলা শুনানির জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি। এতে করে জমে থাকা মামলার পরিমাণ কমে যাবে এবং মূল মামলা নিষ্পত্তিতে অধিক সময় ব্যয় করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। মামলা ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা এমন আরও অনেক বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আজকের এ অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সানুগ্রহ সম্মতিজ্ঞাপন করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত হতে পারেননি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার সহকর্মী বিচারপতিগণের পক্ষে আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সানুগ্রহ সম্মতি প্রদানের জন্য এবং পরে অসুস্থতাজনিত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হতে পেরে লিখিত বক্তব্য প্রেরণের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট দিবস উদযাপন-সংক্রান্ত জাজেস কমিটির সভাপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

এর আগে দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট দিবস-২০১৮ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে কেক কেটে দিবসটির উদ্বোধন করেন তিনি। একইসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির আয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।

রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘রক্তদানের মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। এখানে যারা রক্ত দান করছেন তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। একইসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই যারা আজ রক্ত দিচ্ছেন তাদের অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানাই সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিকে।’

আইনজীবী সমিতির সহসম্পাদক কাজী জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় ও সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বিচারপতি জিনাত আরা, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি নূরুজ্জামান।

এছাড়াও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর প্রতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে সুপ্রিমকোর্ট দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয় কোর্ট প্রশাসন। দিবসটি উপলক্ষে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এ ইশতেহারে ১৪টি প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কিছু চমকও রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারি খরচে প্রবাসী কর্মীদের মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে।

ইশতেহার তৈরির জন্য ঐক্যফ্রন্ট ৬ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিকউল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে রাখা হয়।

ইসতেহার ঘোষাণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

সোমবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

ঐক্যফ্রন্টের ১৪টি নির্বাচনি ইশতেহার

১. প্রতিহিংসা বা জিঘাংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই লক্ষ্য:

গত ১০ বছরের মামলা, গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা তদন্তে শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, আইনজীবীদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন কমিশন গঠন করা হবে। খোলামনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমাধান করা হবে

সকল জাতীয় বীরদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একদলীয় শাসনের যাতে পুন:জন্ম না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।

২. নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা:

বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ও গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে।

রিমান্ডের নামে নির্যাতন বা সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার বন্ধ করা হবে।

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে।

৩. ক্ষমতার ভারসাম্য:

নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি ও নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেয়া

সংসদে উচ্চকক্ষ তৈরি করা হবে

আলোচনার মাধ্যমে ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে

সংসদে বিরোধী দলকে গুরুত্ব দেয়া

দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারা যাবে না

সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে

প্রাদেশিক সরকার পরীক্ষার জন্য সর্বদলীয় জাতীয় কমিশন গঠন করা

৪. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ:

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের হাতে

জেলা পরিষদের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন

পৌর এলাকায় সিটি গভর্নমেন্ট চালু হবে

প্রশাসনিক কাঠামো প্রাদেশিক পর্যায়ে বিন্যস্ত করা হবে

৫. দুর্নীতি দমন ও সুশাসন:

বর্তমান সরকারের আমলের দুর্নীতির তদন্ত করে জড়িতদের বিচার করা হবে

ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে

দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল হবে

বর্তমান কোন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করা হবে না

ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারে লুটপাটে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে

ভিনদেশীয় সাংস্কৃতি আগ্রাসন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

৬. কর্মসংস্থান ও শিক্ষা:

পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোন বয়সসীমা থাকবে না

বেকার ভাতা চালু করা হবে

তিন বছরের মধ্যে সরকারি সব শূন্য পদ পূরণ করা হবে

ওয়ার্ক পারমিটবিহীন সকল বিদেশী নাগরিকের চাকুরি বন্ধ করা হবে

মোবাইলে ইন্টারনেট খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে

পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যয় সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হবে

মাদ্রাসা শিক্ষায় কারিগরি শিক্ষা দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান করা হবে

৭. স্বাস্থ্য:

হাসপাতালগুলোর শষ্যা বৃদ্ধি করা হবে এবং সকল জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন

ওষুধের অপপ্রয়োগ রোধে চিকিৎসকদের সকল ব্যবস্থাপত্র নিরীক্ষা এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর খতিয়ান পরীক্ষা করে জানানো হবে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ন্যায়পাল থাকবেন

ঔষধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানো হবে

প্রবাসী কর্মীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে আনা এবং বাড়িতে পৌছে দেয়া হবে

সকল নাগরিককে স্বাস্থ্য কার্ড দেয়া হবে

৮. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন:

দুই বছরের মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করা হবে

সকল খাতের শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনিং চালু করা হবে

স্বাস্থ্যবীমার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম দিয়ে সবাই স্বাস্থ্য সুবিধা পাবেন

কর্মজীবী নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করা হবে

ভেজাল ও রাসায়নিকমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হবে

৯. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি:

প্রথম বছর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে না

একশো মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর মূল্য আগামী পাঁচ বছরে বাড়বে না

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ও সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক দামের পরিবর্তে আবাসিক হারে হবে

১০ প্রবাসী কল্যাণ:

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে

ইউরোপ, জাপানসহ নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা হবে

মধ্যপ্রাচ্যে মারা যাওয়া প্রবাসী কর্মীদের মৃতদেহ সরকারি খরচে দেশে এসে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে

১১. নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন:

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার হবে

ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে

পরিবহন নীতি গ্রহণ করা হবে

গণপরিবহন ও রেলখাতকে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রসারণ করা হবে

১২. প্রতিরক্ষা ও পুলিশ:

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষাবাহিনীর জন্য যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা হবে

পুলিশ বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করা হবে

জাতিসংঘ বাহিনীতে পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে

১৩. পররাষ্ট্র নীতি:

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়

সমতার ভিত্তিতে ভারতের সাথে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা হবে

চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ এর লাভজনক প্রকল্পে বাংলাদেশ যুক্ত হবে

তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ দ্বিপাক্ষিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে

১৪. জলবায়ু পরির্ব্তন:

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি ঠেকাতে আরো বেশি আন্তর্জাতিক সাহায্য নিশ্চিত ও সেটার ব্যবহার করা হবে।

বিশ্বের শীর্ষ ৫০০টি উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এশিয়ায় রয়েছে ৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে চীনের। এই তালিকায় নেই বাংলাদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়।

 ইউএস নিউজ ইউনিভার্সিটি কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং ২০১৯ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা সংস্থা ডাটালিডস।

এই র‍্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ব ও এশিয়া শিক্ষাবিদদের রেটিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। র‍্যাংকিংটি তৈরিতে ৭৫ দেশের ১,২৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

র‍্যাংকিং অনুসারে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ মান সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হলো সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর। বিশ্ববিদ্যালয়টি তালিকার ৩৮ নম্বরে রয়েছে। শীর্ষ ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এশিয়ার আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ৪৯ নম্বরে রয়েছে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি এবং ৫০ নম্বরে চীনের সিঙ্গুয়া ইউনিভার্সিটি। শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় রয়েছে জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও (৬২), চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি (৬৮), সৌদি আরবের কিং আব্দুলআজিজ ইউনিভার্সিটি (৭৬)।

বিশ্বের উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। দেশটির ১৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় রয়েছে। এশিয়ার মধ্যে ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীন। ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের পরে রয়েছে জাপান। ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এশিয়া তৃতীয় স্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ৪টি, সিঙ্গাপুরের ২টি এবং মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের ১টি করে বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় রয়েছে। উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় যেসব দেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেগুলো হলো বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া, ব্রুনেই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও মঙ্গোলিয়া।

বিশ্বের উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। শীর্ষ দশের মধ্যে থাকা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো যথাক্রমে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনে ইতোমধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। প্রার্থীরা তাদের ইচ্ছে মাফিক প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন।’

সিইসি বলেন, কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মহা-পুলিশ পরিদর্শককে কাল-পরশুর মধ্যেই চিঠি দেবে, যেন নিষ্পপ্রয়োজনে কোন প্রার্থী, প্রার্থীর কর্মীদের ফৌজদারী অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকলে বা গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকলে হয়রানি, গ্রেফতার না করা হয়।

নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সিআরপিসি অনুযায়ী পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবস্থা নেবে। তবে তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের দিন ভোটকক্ষের ভেতরে ছবি তোলা যাবে। কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না।

সিইসি বলেন, ‘পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি-ভোটকক্ষের ভেতরে কোন সরাসরি সম্পচার করা যাবে না। কেন্দ্রে সীমিত আকারে সাংবাদিক যেতে পারবে, যাতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অসুবিধা না হয়। বাংলাদেশি পর্যবেক্ষদের জন্য নীতিমালা আছে, বিদেশীদের জন্যও নীতিমালা আছে। সেগুলো মানতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন না। সরাসরি সংবাদ প্রচার করতে পারবে না। তবে ভোটকক্ষের বাইরে সরাসরি প্রচার করতে পারবেন। গোপন কক্ষের ফটো তোলা যাবে না। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ব্যবস্থাপনা ও তার কথা মানতে হবে।’

আচরণ বিধি ভঙ্গের ব্যাপারে তিনি বলেন, ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । তাদের কাছে অভিযোগ করলে ভাল হয়। নির্বাচনের দায়দায়িত্ব বেশিরভাগ রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে, তাদের কাছেও অভিযোগ দেয়া যাবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে একটি অভিযোগ কমিশনে এসেছে। এটি নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুবু তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম ও ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক দল আরেক দলের নেতাদের ছুটিয়ে এনে প্রার্থী করার খেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির ব্যস্ততার কমতি না থাকলেও এখনও ইশতেহার প্রকাশ না করায় দল দুটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

তিনি বলেছেন, লুটপাটের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা একটি সুবিধাজনক উপায় ও মাধ্যম। তাই লুটপাটের প্রয়োজনে ক্ষমতার জন্য দুপক্ষই মরিয়া।

বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘তাই দেশের অর্থনৈতিক নীতি-ব্যবস্থার মত মৌলিক বিষয়ে আলোচনা-বিতর্ক-জনমত সংগঠিত করার কাজে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। তাদের প্রধান লক্ষ্য হল যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়া। নির্বাচনকে তারা পরিণত করেছে হোন্ডা-গুণ্ডা-টাকাওয়ালা-ইসলামপছন্দ ব্যক্তি ও শক্তিকে পক্ষে টেনে প্রার্থী করার কুৎসিত প্রতিযোগিতায়।

‘জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করা, জনগণের মতামতের প্রকাশ ঘটানোর মত বিষয়গুলো তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। এ কারণেই ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’র পক্ষ থেকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে পর্যন্তও কোনো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়নি।’

শনিবার বিকালে পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ বাস্তবায়নে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সেলিম বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে দেশ কোন নীতি-আদর্শ-ব্যবস্থা-কর্মপন্থা অনুসরণ করে চলবে, তা নিয়ে জনগণের মাঝে আলোচনা-বিতর্ক ছড়িয়ে দেওয়ার কর্তব্যের প্রতি ‘নৌকা’ ও ধানের শীষ’ ওয়ালাদের দৃষ্টি নেই বললেই চলে।

‘কিছু মন ভোলানো বাগাড়ম্বর ছাড়া এসব মৌলিক বিষয়ে আলোচনা-বিতর্ক সামনে আনতে তারা অনাগ্রহীই শুধু নয়, সেটিকে তারা ভয় পায়। কারণ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চললে তারা যে এক শতাংশের স্বার্থ রক্ষা করে তা জনগণের সামনে খোলাসা হয়ে যাবে।’

আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের উদাহরণ টেনে সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘পাকিস্তানী আমলে আমাদের অধিকার ছিল না। ভোট দিতে দেওয়া হতে না। মৌলিক গণতন্ত্র চালু হয়েছিল। আইয়ুব খান, মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে আমরা সংগ্রাম করেছিলাম। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান উন্নয়নের এক দশক পালন করেছিল। বক্তৃতা দিয়ে বলত তার আমলে প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ বেড়েছে।

‘তখন মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে রেজ্যুলেশন নেওয়া হল যে, আইয়ুব খানকে আজীবন প্রেসিডেন্ট বানানোর প্রস্তাব সংবিধানে ঢুকিয়ে দেওয়া হোক। এতকিছুর পরও উৎসব শেষে তিনমাসের ভেতরে আইয়ুব খানের পতন হয়ে গেল ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে।’

সেলিম বলেন, ‘এখন শেখ হাসিনা দাবি করে ৮ শতাংশ এবং খুব বাহাদুরি নেয়। আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করি দেশের সম্পদ যদি ৮ শতাংশ বাড়ে তাহলে ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি মানুষের প্রকৃত আয় কেন ৮ শতাংশ বাড়েনি? বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। বাকি ৬ শতাংশ গেল কোথায়? খুঁজে বের করেন। আমরা এর জন্য তো দেশ স্বাধীন করিনি।’

অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অবস্থান অভিন্ন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বিরোধীদলে থাকলে রাস্তায় স্লোগান দিয়ে গলা ফাটায়া বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। আর সরকারে গেলে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে প্রহসন। বিএনপিও সেরকমই।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম নাদিম, হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি কবীর হোসেন ও ইয়াসিন স্বপন।


বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট এখন মিডিয়ায় আছে, মাঠে নেই: ওবায়দুল কাদের।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি মিডিয়ায় আছে, ভোটের মাঠে নেই। তারা কিছু হলেই মিডিয়া ও সাংবাদিকদের দারস্থ হয়। জনসমর্থন নেই বলে তারা ভোটের মাঠে যেতে পারছে না।

শনিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী তার নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) কবিরহাটের নবগ্রাম বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে বলেন, মওদুদ সাহেব বলেছিলেন এক মাসের মধ্যে রাজনীতি চেহারা বদলে যাবে। কিন্তু এখন আমরা কী দেখতেছি। কই কোনো চেহারাই তো বদল হলো না। মানুষ এখন ভোটের আমেজে আছে, ভোট উৎসবের অপেক্ষা আছে।

মন্ত্রী বলেন, দলমত-নির্বিশেষে আমার ১২ বছরের মন্ত্রিত্ব। আর মওদুদ সাহেব ২২ বছর মন্ত্রী ছিলেন। কই কোনো উন্নয়ন আছে তার? তার আমলে বিদ্যুৎ ছিল না। ছিল শুধু খাম্বা আর খাম্বা। তারা দলীয় করণেই ব্যস্ত ছিলেন। দলের লোক ছাড়া অন্য কারো জন্য কোনো উন্নয়ন করেনি। অন্যদিকে আমরা দলের বাইরেও সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্নয়ন করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির লোকজন শীতের অতিথির মতো। এরা শীত আসলে আসে, শীত শেষে চলে যায়। ভোটের মাঠে এখন হাস্যরসে পরিণত হয়েছে, ধানের শীষেও এখন বিষে পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী তার নিজ এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে পথসভায় উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, সব দলের কাছে বলতে চাই, আমরা দলীয় লোক দিয়ে নয়। নোয়খালী খালের কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের সময়ে নোয়াখালীর অধিকাংশ এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ পেয়েছে। সড়কের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নোয়াখালীতে দুই ফোরলেনের কাজ চলমান রয়েছে। আগামীতে আরও বড় রড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। যার সুফল সকল দলের লোকজন ভোগ করবে।

শেষে মন্ত্রী বলেন, নৌকা বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, স্বাধীনতার ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। এই বিজয়ের মাসে নৌকার জয় হবেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমি, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা-৬ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা করা হয়েছে।


অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাটখোলা মোড়ে এ ঘটনায় চার নেতাকর্মী আহত হন।তাদের গণফোরামের কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের নিয়ে হাটখোলা মোড়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। এ সময় অতর্কিত কিছু লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে আমি পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ি।

হামলায় আমার সঙ্গে থাকা চার নেতাকর্মী আহত হন। তাদের গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুব্রত চৌধুরী আরও জানান, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন নির্বাচনী কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তবে সাংবাদিকরা শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকক্ষের ভেতরে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারবেন না বলে ব্রিফিংয়ে নির্দেশনা দেন সিইসি। 

শনিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এসময় সিইসি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবান দেন।

তিনি বলেন, ভোট চলাকালীন ভোটকক্ষে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন।  একসঙ্গে অনেকজন সাংবাদিক কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।

সংবাদমাধ্যমগুলো ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। তবে ভোটকক্ষের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

বিরোধীকর্মীদের ওপর ‘হামলা-মামলা’ বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জনগণ যদি রুখে দাঁড়ায়, তাহলে পালানোর পথ পাবেন না।

আসন্ন নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন সরকারের সমর্থনে শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। টঙ্গীতে সালাহ উদ্দিন সরকারের বাড়ির প্রাঙ্গণে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আ স ম রব বলেন, শেখ হাসিনা ভয় পেয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে। নির্বাচন থেকে কিভাবে পালিয়ে যাওয়া যায় সেই পথ খুঁজছেন! আপনি যদি চলে যেতে চান, তাও দেবো, আমরা বিজয়ী হলে কাউকে কোনো নির্যাতন করবো না। 

ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে জোটের এ নেতা বলেন, যদি হামলা ও মামলা বন্ধ না করেন, জনগণ যদি রুখে দাঁড়ায়, তাহলে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। সেই অবস্থা সৃষ্টির সব দায়-দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে নিতে হবে। 

তিনি ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক সম্পর্কে বলেন, ধানের শীষ শুধু বিএনপির প্রতীক নয়, এটা দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতীক। 

আ স ম রব বলেন, বঙ্গবন্ধু কবরের মধ্যে চিৎকার করছেন এই বলে যে- যারা আমাকে পাকিস্তানে কারাগারে নিয়ে গেছে, তাদের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছো, মাগো তুমি এ কী করেছো! যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর উল্লাস করেছে, শেখ হাসিনা তাদের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন। 

ঐক্যফ্রন্টের এ নেতা বলেন, তারা বলে আমরা নাকি ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দিয়েছি। আমি বলি, তারাতো ব্যাংক ডাকাতদের মনোনয়ন দিয়েছে, শেয়ারবাজার লুটপাটকারীদের মনোনয়ন দিয়েছে। 

নির্বাচনে কারচুপির চক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেসে ডাবল ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। প্রেসের ভাইদের বলবো, আপনারা এই অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকেন। এজন্য আপনাদের চাকরি চলে গেলে ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে চাকরি ফিরিয়ে দেবো। 

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ করেননি উল্লেখ করে আ স ম রব বলেন, আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমরা কয়েকবার মরে গিয়েছি। আর শেখ হাসিনা, আপনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে জনসভায় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। 

দুপুরে ঢাকার উত্তরা থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখে যাত্রা করেছে ঐক্যফ্রন্ট। এই যাত্রাপথে সাতটি স্থানে জনসভা করবেন ফ্রন্টের নেতারা। এরই অংশ হিসেবে টঙ্গীতে জনসভাটির আয়োজন করা হলো।

ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলা দুঃখজনক এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। আর বিষয়টি তদন্তে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে ইসি প্রতিবেদন চাইবে বলে জানান তিনি।

শনিবার বিকালে কমিশন বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। তিনি একজন সিনিয়র সিটিজেন, প্রখ্যাত ব্যক্তি। তার ওপর হামলা কখনও প্রত্যাশিত নয়। এটা ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। তারা আমাদের কাছে এ নিয়ে আবেদন করেছে। বিষয়টি তদন্তে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানি, গ্রেপ্তার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও আইজিপিকে ফের চিঠি দেবে ইসি। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেই তাদেরকে যেন অহেতুক হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাল-পরশুই আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে চিঠি দেব। আগেও বলেছি নিষ্প্রয়োজনে কাউকে যেন গ্রেপ্তার না করা হয়। যারা নেতা রয়েছেন, তাদের যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ না থাকে যেন অহেতুক হয়রানি না করে।

কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম) থেকে: প্রেস বিজ্ঞপ্তি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কর্তৃক ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর, হামলা-ভাংচুর ও পুলিশ কর্তৃক দুইজনকে মামলা ছাড়াই গ্রেফতারের অভিযোগ করেছেন সাবেক এমপি ও বিশ দলীয় জোটের প্রার্থী ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শুভপুর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ও ছাত্রলীগ নেতা সোহাগের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মঙ্গলবার রাতে পোটকরা গ্রামে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস, যুবদল নেতা আহসান হাবিব জিয়ার বাড়িঘর, দোকানপাট ও একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। হামলায় দেলোয়ার হোসেনসহ দুইজন আহত হন। কালিকাপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার লাগানোর সময় জোটকর্মী আমির হোসেন ও সালমানকে সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে যুবলীগ কর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে হামলা চালিয়ে আটক করে। ধনিজকরা বাজারে ধানের শীষের গণসংযোগ শেষে পুলিশ গিয়ে নেতাকর্মীদের খোঁজ করে, মুন্সিরহাট ইউনিয়নের দেড়কোটা গ্রামের ধানের শীষের কর্মী রাকিব উদ্দিনকে যুবলীগ কর্মী নাজমুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মারধর করে। চিওড়া ইউনিয়নের চিওড়া গ্রামে নাজমুল হক বাবরের বাড়িতে গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে নাজেহাল করে, একই কায়দায় হান্ডা গ্রামে মমিনুল ইসলাম ও সাঙ্গিশ্বর গ্রামে সাইফুল ইসলাম রাজুর বাড়িতে যুবলীগ কর্মীরা হামলা চালায়। চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার নবগ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার লাগানোর সময় তিন কর্মীকে আটক শেষে পৌর কার্যালয়ে নিয়ে যায় আ’লীগ নেতাকর্মীরা। পরে তাদেরকে মারধর শেষে ব্যানারগুলো পুড়ে ফেলা হয়। অপরদিকে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের জামুকরা গ্রামের প্রবাসী মাহফুজকে গায়েবী মামলা দিয়ে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার জামিনে বের হয়। কিন্তু চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ জেলগেট থেকেই তাকে আবার গ্রেফতার করে। এছাড়া কনকাপৈত, চিওড়া, বাতিসা, পৌরসভা, মুন্সিরহাট, শুভপুর, ঘোলপাশা, কালিকাপুর ও কাশিনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আ’লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় হামলা, মামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ডাঃ তাহের আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক প্রটোকল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। পক্ষান্তরে ধানের শীষের কর্মীদের কাজ করতে দিচ্ছে না। বিভিন্নস্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। মাদক ও হত্যা মামলায় আ’লীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। অবিলম্বে নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশকে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালনের আহবান জানান তিনি।

নতুন ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার বোর্ডসভায় একটি ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও লাইসেন্স দেয়া হয়নি। অন্য ব্যাংক দুটির বিষয়ে কাগজপত্র ঠিক করতে বলা হয়েছে। বোর্ডসভায় ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। সভা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

<

জানা গেছে, সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নতুন ব্যাংক না দেয়ার পক্ষে। তাই এটি আটকে গেছে। নির্বাচনের পরে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সূত্র জানায়, নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপত্তি জানালেও সরকারের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালে নতুন ৯টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের জন্য সীমান্ত ব্যাংক দেয়া হয়। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে অতফসিলিভুক্ত থেকে তফসিলি ভুক্ত ব্যাংক করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবরে পুলিশ সদস্যদের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুলিশের ব্যাংক ছাড়া আরও ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনা ছিল। ওই বোর্ডসভায় ৩টি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তা পরের বোর্ডসভায় ওঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২৫ নভেম্বর বোর্ডসভায় এজেন্ডা আকারে ৩ ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অজানা কারণে ওই বোর্ড একদিন আগে বাতিল করা হয়। ব্যাংক তিনটি হল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক।

এর মধ্যে বেঙ্গল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হচ্ছে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সিটিজেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক এবং পিপলস ব্যাংকের উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এমএ কাশেম।জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ৩টি ব্যাংকের লাইসেন্স সংক্রান্ত এজেন্ডা বোর্ডসভায় ছিল। বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের কাগজপত্র সন্তোষজনক। তবে প্রাথমিক লাইসেন্স (লেটার অব ইনটেন্ড-এলওআই) আগামী বোর্ডসভায় দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত উদ্যোক্তাদের সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। সিটিজেন ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানে কর বকেয়া রয়েছে। কর পরিশোধের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনাপত্তি পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সন্তোষজনক ব্যাংকটির বিষয়ে এলওআই দিতে আগামী বোর্ডসভায় স্মারক উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। অন্য দুটি ব্যাংকের কাগজপত্র কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আগামী বোর্ড উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংক সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশের তুলনায় ১৩ গুণ বড় মেক্সিকোর ব্যাংক সংখ্যা ৪৭টি। বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার বর্গকিলোমিটারে গড়ে ৭৫টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে ‘সুবোধ বালক’র মতো আচরণ করছে।


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেছেন, আমরা মনে করি তিনি (সিইসি) অসহায় ও বিব্রতবোধ করছেন। কারণ তিনি কিছুই করতে পারছেন না।

তবু আমরা আশা রাখি-সিইসি যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেন, তা হলে আমরা এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে প্রমাণ করতে পারব।

বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারণায় নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট। প্রথম দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রচারণায় হামলা ও বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটছে।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই আমাদের মহাসচিবের গাড়িবহরে আক্রমণ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের প্রচারণায় বারবার হামলা করা হচ্ছে। মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এ হামলা করছে।

এ ছাড়া যারা জামিনে আছেন, তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবার যারা গ্রেফতার হচ্ছেন, তাদের জামিনও দেয়া হচ্ছে না। এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। নাটোরে জামিনে থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতা দুলুকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার চাইছে না আমরা যেন নির্বাচনে প্রচারণা চালাই, নির্বাচনে অংশ নেয়। আর এভাবে তারা যেন একতরফাভাবে নির্বাচন করতে পারে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা জানাতে আজ আমরা এসেছি। কারণ সিইসি বলেছিলেন-আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেব। সবাই সমান সুযোগ পাবে। আর এ কারণেই এ বিষয়গুলো আমরা কমিশনকে জানালাম।

সিইসির বিষয়ে সেলিমা রহমান বলেন, সিইসি জানিয়েছেন, যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে পুলিশ তাদের ধরছে। কারও নামে সুনির্দিষ্ট মামলা থাকলে সেটি তিনি কি করে জানবেন। তবে তিনি চেষ্টা করছেন, চেষ্টা করবেন।

আওয়ামী লীগের দুই নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডে বিএনপিকে দায়ী করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে। পল্টনে সহিংসতা দিয়ে নির্বাচন শুরু করেছে তারা। পল্টনের যে তাণ্ডব, সেই তাণ্ডব এখন তারা চালাচ্ছে। বিএনপি আবারও প্রমাণ করল তারা সন্ত্রাসী দল।

‘সহিংসতা কারা করছে-দুজন কালকে মারা গেছে; একজন নোয়াখালীতে, আরেকজন ফরিদপুরে।’

তিনি বলেন, এখন ফখরুল সাহেব সহিংসতার কথা বলছেন, নাশকতার কথা বলছেন; সরকারি দলের নিপীড়নের কথা বলছেন-এই নিপীড়ন কারা করছে? আজকে বিরোধী দল হয়ে আপনারাই তো গতকাল দুটি খুন করেছেন; দুটিই বিএনপি আওয়ামী লীগের কর্মীদের হত্যা করেছে। এটির প্রমাণ আছে-এটি কোনো সাজানো-বানানো কথা নয়।

নির্বাচনের প্রচারে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন আর ভাষণ দিয়ে লাভ নেই-অ্যাকশনে যেতে হবে। অনেক কাজ, অনেক ক্যাম্পেইন করতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির গণজোয়ার নয়, গণভাটা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ কিন্তু জমাতে পারছেন না। বিএনপির ভাঙাহাট কোথাও জমছে না। অথচ তারা বলছেন-গণজোয়ার। আমি বলছি-এটিকে গণভাটা। বিএনপির এখন গণভাটা চলছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মিডিয়ার একটি অংশ আমাদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করছে। মনে হচ্ছে-তারাই ঐক্যফ্রন্ট। এগুলো করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। এতে নিজের (গণমাধ্যম) বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন নির্বাচনী প্রচার উপ-কমিটির আহ্বায়ক ড. হাছান মাহমুদ ও উপদফতর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় গণমাধ্যমও স্বাধীন। কিন্তু বাংলাদেশে এখন আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সাংবাদিকরা এখন আর সত্য লিখতে পারে না। সত্য লিখলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে।

<

শুক্রবার কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসদরের নিজ বাসভবনে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ড. মোশাররফ বলেন, আপনারা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। যদি সত্য লিখতে গিয়ে আমার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও হয় তাও লিখবেন। সত্য সংবাদ থেকে কখনো পিছপা হবেন না।

তিনি বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রগতি, বহির্বিশ্বে রাষ্ট্রের সুনাম বাড়িয়ে তুলতে ভালো সংবাদের বিকল্প নেই। এবং সামাজিক অসংগতি, রাষ্ট্রনায়কদের ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা জনবিরোধীবিষয়ক সংবাদও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে। আপনারা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সঠিক, তথ্যবহুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন।

বিএনপি নেতা বলেন, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা ভোটকেন্দ্রে থাকবেন। যাতে কোনো অপশক্তি অবৈধ উপায়ে ভোট ছিনিয়ে নিতে না পারে। সে জন্য আপনাদের ভূমিকা অপরিহার্য। আপনাদের সঠিক ভূমিকাই একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হবে। সংবাদপত্র রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভ, সেটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশলবিনিময় ও ধন্যবাদ জানিয়ে মতবিনিময় সভা শেষ করেন ড. মোশাররফ।

সভায় দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ২০৬ জন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন। এদিকে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের প্রার্থীদের তালিকা শনিবার জানানো হবে।

বিএনপির চূড়ান্ত এ তালিকায় যারা রয়েছেন

চট্টগ্রাম বিভাগ: কুমিল্লা-১ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-২ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৩ কাজী মুজিবুল হক, কুমিল্লা-৮ জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৯ এম আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর-১ মো. মোশাররফ হোসেন, চাঁদপুর-২ মো. জালালউদ্দিন, চাঁদপুর-৪ এমএ আব্দুল হান্নান, চাঁদপুর-৫ মমিনুল হক, ফেনী-২ জয়নাল আবদীন, ফেনী-৩ মো. আকবর হোসেন, নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদীন ফারুক, নোয়াখালী-৩ মো: বরকতউল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ মো. ফজলুল আজিম, লক্ষীপুর-২ আবুল খায়ের ভ‚ইয়া, লক্ষীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম-১ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ আজিবুল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৪ মো. ইসহাক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ জসিমউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-৭ কুতুব উদ্দিন বাহার, চট্টগ্রাম-৯ শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১০ আব্দুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ সরোয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৬ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার-১ হাসিনা আহমেদ, কক্সবাজার- ৩ লুৎফর রহমান, কক্সবাজার- ৪ শাহজাহান চৌধুরী, খাগড়াছড়ি মো. শহিদুল ইসলাম ভুইয়া, রাঙামাটি মনি স্বপন দেওয়ান ও বান্দবান সাচিং প্রু জেরি।

রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-৪ আসনে আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনে রেজওয়ানুল হক, নীলফামারী-১ আসনে রফিকুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনে হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনে রোকনউদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ আসনে আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর-২ আসনে মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান, রংপুর-৪ আসনে এমদাদুল হক, রংপুর-৬ আসনে সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-১ আসনে সাইফুল ইসলাম রানা, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে তাসবিরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ আসনে ফারুক কবির আহমেদ, গাইবান্ধা-৫ আসনে ফারুক আলম সরকার।

রাজশাহী বিভাগ: জয়পুরহাট-১ আসনে ফজলুর রহমান, জয়পুরহাট-২ আসনে আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান, বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে শাহজাহান মিয়া, চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আমিনুল ইসলাম, চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হারুনুর রশীদ, নওগাঁ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনে শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৪ আসনে ডা. শামসুল আলম প্রমাণিক, নওগাঁ-৫ আসনে জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনে আলমগীর কবির, রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ আসনে মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনে শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনে আবু হেনা, রাজশাহী-৫ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনে আবু সাঈদ চাঁদ, নাটোর-১ আসনে কামরুন্নাহার, নাটোর-২ আসনে সাবিনা ইয়াসমিন, নাটোর-৩ আসনে দাউদার মাহমুদ, নাটোর-৪ আসনে আবদুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-১ রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আবদুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিস, পাবনা-২ আসনে একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ আসনে কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিব।

খুলনা বিভাগ: মেহেরপুর-১ আসনে মাসুদ অরুন, কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মাহমুদ হাসান খান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যশোর-১ আসনে মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, যশোর-৬ আসনে আবুল হোসেন আজাদ, মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী, নড়াইল-১ আসনে সাজ্জাদ হোসেন, বাগেরহাট-১ আসনে মাসুদ রানা, বাগেরহাট-২ আসনে এমএ সালাম, খুলনা-১ আসনে আমীর এজাজ খান, খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল, সাতক্ষীরা-১ আসনে হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বরিশাল বিভাগ: পটুয়াখালী-১ আসনে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-৩ আসনে গোলাম মওলা রনি, পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফ হোসেন, ভোলা-২ আসনে হাফিজ ইবরাহিম, ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ভোলা-৪ আসনে নাজিমউদ্দিন আলম, বরিশাল-১ আসনে জহিরউদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ আসনে সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, বরিশাল-৫ আসনে মজিবুর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ আসনে আবুল হোসেন খান, ঝালকাঠি-১ আসনে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আমিন খান, পিরোজপুর-৩ আসনে রুহুল আমিন দুলাল।

ময়মনসিংহ বিভাগ: জামালপুর-২ আসনে সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার, জামালপুর-৫ আসনে অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, শেরপুর-১ আসনে ডা. শানসিলা, শেরপুর-২ আসনে একেএম মোখলেসুর রহমান রিপন, শেরপুর-৩ আসনে মাহমুদুল হক রুবেল, ময়মনসিংহ-২ আসনে শাহ শহীদ সারওয়ার, ময়মনসিংহ-৩ আসনে আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন, ময়মনসিংহ-৫ আসনে মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ-৬ আসনে ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমদ, ময়মনসিংহ-৭ আসনে জয়নাল আবেদীন, ময়মনসিংহ-৯ আসনে খুররম খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১১ আসনে ফখরুদ্দিন বাচ্চু, নেত্রকোনা-১ আসনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-২ আসনে আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনে রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোনা-৪ আসনে তাহমিনা জামান শ্রাবনী।

ঢাকা বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ আসনে রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-৬ মো. শরীফুল আলম, টাঙ্গাইল-২ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৫ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, টাঙ্গাইল-৬ আসনে অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, টাঙ্গাইল-৭ আসনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মিজানুর রহমান সিনহা, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে আবদুল হাই, ঢাকা-২ আসনে ইরফান ইবনে আমান, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১০ আসনে আবদুল মান্নান, ঢাকা-১১ আসনে শামীম আরা বেগম, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৩ আসনে আবদুস সালাম, ঢাকা-১৬ আসনে আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা-১৯ আসনে ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২০ আসনে তমিজউদ্দিন, গাজীপুর-১ আসনে চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর-২ আসনে সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৪ আসনে শাহ রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর-৫ আসনে ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবীর খোকন, নরসিংদী-২ আসনে ড. আবদুল মঈন খান, নরসিংদী-৪ আসনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, রাজবাড়ি-১ আসনে আলী নেওয়াজ খৈয়াম, রাজবাড়ি-২ আসনে নাসিরুল হক সাবু, ফরিদপুর-১ আসনে শাহ মো. আবু জাফর, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ৩৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রার্থিতা ফিরে পান তারা।

অন্যদিকে দলটির ২০ প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির যে ৩৮ জন:
বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আব্দুল ওয়াহাব, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আসনের আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ আসনের মো. শাহজাহান, সিলেট-৩ আসনের আব্দুল কাইয়ুম, জয়পুরহাট-১ আসনের ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ আসনের মো. হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আসনের আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. আইনাল হক, খুলনা-৬ আসনের এসএ শফিকুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মো. জয়নাল আবেদীন, শেরপুর-২ আসনের একেএম মুখলেছুর রহমান, চট্টগ্রাম-১ আসনের নুরুল আমীন, কুমিল্লা-৫ আসনের মোহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, গাইবান্ধা-৩ আসনের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনের মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৩ আসনের মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক, ময়মনসিংহ-৩ আসনের আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবু আসিফ, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-১৪ আসনের সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আব্দুল খালেক, রাজশাহী-১ আসনের মো. আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ আসনের মো. হানিফ, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাটোর-৪ আসনের আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এমএ মুহিত ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মেজর(অব.) মঞ্জুর কাদের।

বিএনপির যে ২০ প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে:
খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, পঞ্চগড়-১ আসনের মো. তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের মো. আব্দুল মুহিত, বগুড়া-৬ আসনে একেএম মাহবুবুর রহমান, হবিগঞ্জ-২ আসনের মো. জাকির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আখতার হোসেন, ফেনী-১ আসনের মো. নূর আহাম্মদ মজুমদার, লালমনিরহাট-২ আসনের মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর-৫ আসনের মমতাজ হোসেন, চট্টগ্রাম-৫ আসনের মীর মোহাম্মদ নাসির, নীলফামারী-৪ আসনের মো. আমজাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ আসনের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাইফুল ইসলাম শিশির, বাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মুশফিকুর রহমান, নাটোর-২ আসনের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনের মোহাম্মদ সরকার বাদল, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের ইকবাল হাসান মাহমুদ, নওগাঁ-৫ আসনের মোহাম্মদ নাজমুল হক, যশোর-২ আসনের সাবিরা নুর ও মাগুরা-২ আসনের খন্দকার মেহেদী আল মাসুম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট যদি ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা রক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় ওবায়াদুল কাদের আরও জানান, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ও জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
আজকের মধ্যেই চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তরা চিঠি পাবেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরই মধ্যে দলের ও জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আজ-কালের (বৃহস্পতিবার-শুক্রবার) মধ্যেই চিঠি দিয়ে দেয়া হবে। আগামীকাল (শুক্রবার) চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তরা চিঠি পাবেন। এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের সভাপতি সাত বছর ধরে জরিপ প্রতিবেদন প্রতি ছয় মাস পর সংগ্রহ করেছেন। পাঁচ-ছয়টি বিদেশি কোম্পানি এ কাজ করেছে। জরিপ প্রতিবেদনগুলো মূল ভূমিকা পালন করেছে।

জরিপে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীর ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে অন্য দলের জনমত জরিপ বিবেচনা করা হয়েছে। শরিকদের সঙ্গেও বোঝাপড়া হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগ একটি সমঝোতা করতে পেরেছে। মনোনয়ন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন দেখা যায়নি। বিতর্ক এড়াতে আওয়ামী লীগে অনেক প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মনোনয়নে রাজনীতির বিজয় হয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগের দুশ্চিন্তা নেই। কিছু কিছু জায়গায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতে পারে। কারণ জোটের কারণে আওয়ামী লীগের অনেক আসনে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

দলের যোগ্য ব্যক্তি যারা এবার মনোনয়ন পাননি, তাদের আগামী দিনে সম্মানিত করা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক যোগ্য প্রার্থীকে আমরা মনোনয়ন দিতে পারিনি। আমি তাদের আমাদের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বলতে চাই, দল ক্ষমতায় এলে আপনারা যে ত্যাগ স্বীকার করছেন, এর সম্মানিত করা হবে। যোগ্য ব্যক্তির সম্মান একদিন না একদিন আপনি পাবেন। তিনি বলেন, লিডারশিপ মানতে হবে। শেখ হাসিনাকে মানতে হবে। শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যই শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। আমি বলব, ’৭৫ পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার মতো এত সৎ, এত ভালো মানুষ আর রাজনীতিতে আসেনি।

টাকা নিয়ে মনোনয়ন দিতে না পেরে বিএনপির অনেক নেতা ঢাকা ছেড়ে পালিয়েছেন- এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা সত্য নয়। প্রতি আসনে এত বেশি প্রার্থী দেয়ার কারণ মনোনয়ন বণিজ্য। টাকা-পয়সা ছাড়া বিএনপিতে মনোনয়ন, এটা কল্পনাও করা যায় না। যারা মনোনয়ন পায়নি, তারা এখন টাকার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ আবার মনোনয়নের টাকা নিয়ে ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ের বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পরাজয় ২০০১ সালের অন্ধকার, আমাদের পরাজয়ে বাংলাদেশে রক্তের নদী বয়ে যাবে। আমাদের প্রতিপক্ষের ২০০১, ২০১৪ সালে যে বিভীষিকা, রক্তপাত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, আমরা কি সে অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই? উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমন প্রশ্ন রাখলে সবাই একযোগে বলেন, ‘চাই না’। এ সময় কাদের বলেন, তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির কাছে রাজনীতির একটি বড় অস্ত্র আছে, সেটা হল ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে। বিরোধীরা নাশকতা করতে পারে, সহিংসতা করতে পারে। শুরুটা তারাই (বিএনপি) করেছে। তফসিলের পর পল্টনের তাণ্ডব। এটা যারা করতে পারে, তারা দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করেছে।

কামাল হোসেনের সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল এখন বিএনপির রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি এখন নেতা নন, নির্বাচনও করছেন না। তাহলে বিএনপির নেতা হচ্ছে পলাতক, দণ্ডিত আসামি তারেক। তার নির্দেশে কামাল হোসেন এখন কথাও বলেন না। তারেক রহমানের নির্দেশে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টু পরিচালিত হচ্ছেন। হায় রে কী লজ্জা। বাংলাদেশের জনগণ কি এত বোকা? এ মানুষগুলোর অসহায় আত্মসমর্পণ ‘খুনির’ কাছে, দুর্নীতির কাছে, দণ্ডিত ব্যক্তিদের কাছে। তারা না কি কেন্দ্র পাহারা দিতে আসবে। আমরাও কেন্দ্র রক্ষা করব।

‘আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে’- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগকে ৩০ আসনের বেশি দিতে চান না। ২০০৮ সালে পেয়েছিলেন ২৯ আসন। আমরা কিন্তু ক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে এত আসন দেব, এ অহংকারী উচ্চারণ একবারও করিনি। জনগণই ঠিক করবে কাকে কত আসন দেবে।

তিনি বলেন, যত আস্ফালন করবে, ততই পতন হবে। ইনশাআল্লাহ বিজয়ের মাসে আবারও আওয়ামী লীগের বিজয় হবে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে আরেকটা টার্ম ক্ষমতায় থাকা দরকার।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
এর আগে সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির এক কর্মশালার উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, পোলিং এজেন্টদের ট্রেনিং ও ইভিএম সিস্টেমের সঙ্গে পরিচিত শীর্ষক এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সামাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।