এ আর আহমেদ হোসাইন
দেবীদ্বার-কুমিল্লা প্রতিনিধি//

দেবীদ্বারে বিদেশ ফেরত কোন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে নির্ধারিত (১৪দিন) সময় অতিবাহিত না করে নিয়ম বহির্থূত বাহিরে ঘুরা ঘুরি করতে দেখা গেলেই জেল জরিমানার নির্দেশ দিলেন স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরী সভায় ওই ঘোষণা দেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, দল মত নির্বিশেষে আতঙ্কতি না হয়ে রোগ প্রতিরোধে আমাদের সাধারন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। দেবীদ্বারে ১৫মার্চ থেকে ১৯মার্চ পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ৫৮জনের মধ্যে ১০জনকে দেশে আসার পর ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশসন। এদের মধ্যে উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মোঃ আবুল হোসেন’র পুত্র বাহরাইন প্রবাসী মোঃ সোহেল গত ৪ মার্চ দেশে আসার পর ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর আইইডিসিআর’র পরীক্ষা- নিরীক্ষায় তার মধ্যে করোনা ভাইরাসের জীবানু ন্যাগেটিভ হওয়ায় সে মুক্ত বিচরনের সুযোগ পেয়েছে। বাকীদের মধ্যে কেউ কেউ পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়। এদিকে পলাতকদের মধ্যে উপজেলা সদরের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষিকা স্বামী, সন্তান, শ^াশুরীকে নিয়ে ইটালী অবস্থান করে তিনি গত সপ্তাহে দেশে ফিরে আসেন। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার কিছু নমুনা নিয়ে তিনি দু’দিন ক্লাশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, তিনদিন স্কাউট প্রশিক্ষন গ্রহন সহ এলাকায় দিব্বী ঘুড়ে বেড়াবার অভিযোগ তুলেছেন আলোচকরা। দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনিকা আফরিন জানান, ওই শিক্ষিকা জ¦র, সর্দি, কাসি নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, কথাবার্তায় অসংগøতা ছিল, প্রথমে তিনি ইটালি ফেরত তার আত্মীয় বলেন, পরে নিজে একদিন ইটালি থেকে পরদিন ফেরত আসেন বলে জানান, ওই শিক্ষিকাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝাবার চেষ্টা করেন এবং তার সেল ফোন নম্বরটি রেখেদেন, পরে যোগাযোগ করে দেখেন সেল ফোন নম্বরটি সঠিক দেননি। এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহম্মেদ কবির জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এবক্তব্যের বিপরীতে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান, তিনি ঢাকায় নন, বর্তমানে দেবীদ্বারেই অবস্থান করছেন। দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান জানান, তিনি আমাদের সাথে তিন দিনের স্কাউট প্রশিক্ষণ নিয়েছে। একই সূরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী আনোয়ার হোসেন জানালেন, তিনি বিদ্যালয়ে দু’দিন পাঠদানও করেছেন।

আলোচকরা বলেন, সরকারের দূর্বল দপ্তরগুলোর অসচেতনতার কারনে দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, আমাদের দেশে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিলনা। যদি সরকার একটু সতর্কতার সাথে কঠোর অবস্থানে থাকত। কারন, বিদেশ ফেরত প্রবাসীরাই এ সংক্রামক ব্যাধী দেশে আমদানী করছেন। তাদের বিমান. নৌ ও স্থল বন্দর দিয়ে প্রবেশকারী যাত্রীদের আটক রেখে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত (১৪দিন) হোম কোয়ারেন্টাইনে বাধ্যতামূল রাখার পর নিশ্চিত হয়ে তাদের ছাড়ার ব্যবস্থা করা হলে এ সংক্রামন আমাদের আক্রান্ত করতে পারতনা। অপর দিকে বিমান বন্দর সহ বিভিন্ন বন্দরে থাকা অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিরা সুবিধা প্রাপ্তি এবং আবেগপ্রবণতার কারনে প্রবাসীরা বেড়িয়ে এসে নিজ এলাকায় দিব্বী ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে করোনা ঝুকিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এখনো সময় আছে যারা বিভিন্ন ফাক-ফোঁকরে নিজ এলাকায় অবস্থান করছে, তাদের খুঁজে বের করে নিরাপদে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করলে রোধ করা সম্ভব।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহম্মেদ কবির জানান, গত ১৫ মার্চ থেকে বিভিন্ন সোর্সে পাওয়া তথ্যানুযায়ী এ পর্যন্ত ১০জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উপজেলার এলাহাবাদ অইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আবুল হোসেন’র পুত্র বাহরাইন প্রবাসী মোঃ সোহেল গত ৪মার্চ দেশে আসেন, গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামের মোঃ মনুমিয়ার পুত্র সৌদী প্রবাসী মোঃ মজিবুর রহমান, দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর গ্রামের মোসলেম সরকারের ছেলে ইটালী প্রবাসী সুজন সরকার, ভাণী ইউনিয়নের খাদঘর গ্রামের কবির জেহাসেন’র ছেলে ওমান প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক, সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাও গ্রামের মৃত: সুলতান আহমেদ’র ছেলে ইটালী প্রবাসী অলি আহমেদ, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের প্রেমু গ্রামের আব্দুল হাকিম’র ছেলে সৌদী প্রবাসী মোঃ রাসেল, দেবীদ্বার পৌর এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ির ইটালী প্রবাসী বাবুল হোসের রাজু (ভিপি)’র স্ত্রী ইটালী ফেরত তাহমিনা আক্তার আখী, পৌর এলাকার মরিচাকান্দা গ্রামের জব্বর আলীর ছেলে মালয়েশিয়া মোঃ আবু ইউছুফ, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের প্রেমু গ্রামের বশির উল্লাহ’র ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী জহিরুল ইসলাম, জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরুজপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম’র ছেলে কাতার প্রবাসী মোঃ রেজাউল করিম। এরা সবাই গত ৩মার্চ থেকে ১৮মার্চ দেশে এসেছেন। এদের মধ্যে উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মোঃ আবুল হোসেন’র পুত্র বাহরাইন প্রবাসী মোঃ সোহেল গত ৪ মার্চ দেশে আসার পর ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর আইইডিসিআর’র পরীক্ষা- নিরীক্ষায় তার মধ্যে করোনা ভাইরাসের জীবানু ন্যাগেটিভ হওয়ায় সে মুক্ত বিচরনের সুযোগ পেয়েছে।

আলোচকরা বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে প্রবাসীরা বিষয়টি গোপন না রেখে, জনসমাগমে বিচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্তত: ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এ ভাইরসিকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়িরা মাকস, হ্যান্ড ওয়াস, হ্যান্ড র‌্যাব বাজার থেকে উধাউই করে রেখেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এব্যারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন,এসব বিষয়ে সরকার সতর্ক আছে। সুযোগ বুঝে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ালে ভ্রাম্যমান আদালত ব্যাবস্থা নেবে। স্কুল, কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। প্রাইভেট, কোচিং ব্যবসা, ওয়াজ, মাহফিল, ওরোস, সভা- সমাবেশ সহ কোন ধরনের সমাবেশ করা যাবেনা। আইন অমান্য করে ওই সমাবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ এলাকার সচেতন ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। আজও এসি ল্যান্ডের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান’র সভাপতিত্বে উক্ত সভায় পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ জয়নুল আবেদীন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহম্মেদ কবির, দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল আনোয়ার, ওসি তদন্ত মেজবাহ আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনিকা আফরিন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ অর্জুণ সাহা, ডাঃ চিন্ময় সাহা পোদ্দার, দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূইয়া, মোঃ কামরুল হাসান, আবু তাহের সরকার, খন্দকার এম,এ,সালাম, মোঃ সোহরাব হোসেন, মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ সহিদুল ইসলাম প্রমূখ। চিকিৎসকরা বলেন, আমরাও সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় আছি। প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে ৭/৮শত রোগীর সেবা দিচ্ছি।