আবুল হোসেন রিপন, খাগড়াছড়ি

“পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িবাসির নেই কোনো করোনার ভয়, করোনার ভয় তারা করেছে জয় ” এমনই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে প্রাকৃতিক স্টেডিয়াম খ্যাত খাগড়াছড়ি বাজারে। বৃহস্পতিবার ছিলো খাগড়াছড়ির সাপ্তাহিক হাট। জেলা প্রশাসকের পূর্বঘোষনা অনুযায়ী জেলার সবগুলো বাজার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষনার পর ও বৃহস্পতিবারে বা০জার বন্ধের নামের কোনো প্রতিফলনতো দেখাই যায় নি, বরং হয়েছে তার ঠিক উল্টো।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমনরোধে সামাজিক দুরত্ব ব্যবস্থা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোরতাও কাজে আসছে না। যখনই প্রশাসন আসে তখন সবাই পালিয়ে যায়, আর প্রশাসন চলে গেলেই সাথে সাথে চলে আবার পূর্বের ন্যায় বেচাকিনার হাট। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাজারে হচ্ছে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। মানুষের এই আইন না মানার প্রবনতা খাগড়াছড়িতে বেড়েছে করোনাভাইরাস ঝুঁকি।

রাস্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশের ব্যাপক মাইকিং ছাড়াও চেকপোস্ট বসিয়ে জনসাধারনকে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা এবং সতর্ক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে সচেতনতামূলক প্রচার ও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও মানুষ নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রশীদ জানান, খাগড়াছড়িতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বৃহস্প্রতিবার সকাল থেকে শহরে কোন ইজিবাইক চলতে দেওয়া হয়নি। যারা বাজারে এসেছেন, প্রশাসন তাদের বুঝিয়ে চলে যেতে বলছে। এছাড়া শহরে সেনাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত চলছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সামাজিক দুরত্ব লঙ্ঘন ও বাড়তি মূল্যে পণ্য বিক্রি করার অপরাধে গত কয়েক দিনে সাড়ে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছি। তার মতে, আমরা মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছি।