আবুল হোসেন রিপন, খাগড়াছড়ি//

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাকে কোভিড-১৯’র বিপর্যয় থেকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে শুরু থেকে পরিষদ সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে। জেলায় চলতি করোনা মোকাবিলায় প্রথম পর্যায়ে ৯ টি উপজেলার ও ৩ টি পৌরসভায় মোট ৩৮ টি ইউনিয়নের যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন মোট ১০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দান করে আসছে। এছাড়া ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আর ও দশ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দান করবে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ।

ভাইরাস জনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ, দরিদ্র ও কর্মহীনলোক (যেমন-ভিক্ষুক,ভবঘুরে,দিনমজুর, রিক্সাচালক, ভ্যানগাড়ি চালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা,চায়ের দোকানদার) যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে সংসার চালায় সে সকল জনসাধারণের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম (প্রথম পর্যায়)-এর আওতায় পরিসংখ্যান ভিত্তিক খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৫৫০ পরিবার, পানছড়ি উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নে ১০০০ পরিবার, দীঘিনালা উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নে ১৭০০ পরিবার, মহালছড়ি উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে ৮০০ পরিবার, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৯২০ পরিবার, গুইমারা উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নে ৮০০ পরিবার, মানিকছড়ি উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে ১০০০ পরিবার, রামগড় উপজেলায় ২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৭৩০ পরিবার, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ৩টি ইউনিয়নে ৫০০ পরিবারসহ সর্বমোট ১০ হাজার প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল,৫০০ গ্রাম ডাল, ৫০০ গ্রাম তেল ও ১ কেজি আলু সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিতরণ কাজে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সহযোগিতা করেছেন সকলকে পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বর্তমান করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি আলোকে ২৯৮নং খাগড়াছড়ি’র সংসদ সদস্য এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স-এর চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার পরামর্শক্রমে ১২ এপ্রিল (রোববার)২০ আয়োজিত পরিষদে এক জরুরী সভায় নিম্মরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

খাগড়াছড়ি জেলায় হাম আক্রান্ত এলাকায় (পর্যায়ক্রমে ভাইবোনছড়ার রবিধনপাড়া, গোলাবাড়ী ইউনিয়নের রথিচন্দ্র পাড়া এবং মেরুং ইউনিয়নের হেমচন্দ্র পাড়া ও জেরক পাড়ায়) জরুরী সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা।
পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সম্মানিত সদস্যবৃন্দের একমাসের সম্মানী ভাতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ‘করোনা মহামারী মোকাবেলা ফান্ডে’ হস্থান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং তাৎক্ষণিক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীর হাতে সম্মানী ভাতার চেক হস্থান্তর করা হয়।

দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে জেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে গঠিত কমিটি’র উপদেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও জেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এ পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যানকে সম্পৃক্ত না করায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

পরিষদ-এর চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, অবস্থার প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ প্রয়োজনে আরও নতুন নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সব ধরণের দুর্যোগ উত্তরণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সবসময় মানুষের পাশে ছিলো, থাকবে। আসুন, সকলে সরকার ঘোষিত সকল নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় ও সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় এই পরিস্থিতি আমরা দ্রুত কাটিয়ে উঠব বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলামং চৌধুরীর প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।