আনোয়ারুল হক নিজামীঃ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন এর হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বর্তমানে বিশ্বেও ১৯২টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে চলতি বছরের (২৫ মার্চ) পর্যন্ত আক্রন্ত সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৮৬ জনের মতো এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৩১৭জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৯৪৫ জন। উৎপত্তিস্থল চীনে হলেও ৮০ হাজারের ও বেশি আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটি প্রাদুর্ভাব অনেক অংশে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক চীনের বাহিরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারের বলা হয়েছে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সংখ্যা চীনে। সেখানে আক্রান্ত সংখ্যা ৮১০৯৩ এবং মৃত্যু ৩২৭০ জন।
হোম কোয়ারানটাইনের বাংলা অর্থ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি। কিন্তু সেকথা মানছেন না অনেকেই। ছুটি ভেবে ইতিউতি ঘুরতেও দেখা যাচ্ছে তাঁদের। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি (আইএইচআর -২০০৫)-এর আর্টিকেল ৩২ অনুসারে, যে সব দেশে নভেল করোনাভাইরাস বা (কোভিড-১৯)-এর স্থানীয় সংক্রমণ ঘটেছে সে সব দেশ থেকে যে সব যাত্রী এসেছেন এবং আসবেন (দেশি-বিদেশি যে কোনো নাগরিক), যারা দেশে শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন এবং যার অথবা যাদের কোনো শারীরিক উপসর্গ নেই, তাদের ১৪ দিন কোয়ারানটাইন পালন করা আবশ্যক।
করোনা ভাইরাস জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার পরেই তার উপসর্গ দেখা দেয় না। অন্তত সপ্তাহখানেক সে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। তাই কোনও ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে এলে বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও করোনাভাইরাস বাসা বাঁধতে পারে। বাসা আদৌ বেঁধেছে কি না বা সে আক্রান্ত কি না এটা বুঝে নিতেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় রোগীকে। অন্য রোগীদের কথা ভেবেই কোয়ারেন্টাইন কখনও হাসপাতালে আয়োজন করা হয় না। এই সময় রোগের আশঙ্কা থাকে শুধু, তাই কোনও রকম ঔষধপত্র দেয়া হয় না। শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়। বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু রোগের জীবাণু ভেতরে থাকতেও পারে, তাই মাস্ক ব্যবহার করতেও বলা হয়। বাড়ির লোকেদেরও এই সময় রোগীর সাথে কম যোগাযোগ রাখতে বলা হয়।
হোম কোয়ারেন্টাইন বলাটা অনেক যুক্তিযুক্ত। কোনও ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়রান্টাইনের সব নিয়ম মেনে, বাইরের লোকজনের সাথে ওঠাবসা বন্ধ করে আলাদা থাকেন, তখন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন বলে। সম্প্রতি আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে না এলে রোগীকে হোম কোয়রান্টাইনে রাখা হয়।
করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সর্তক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সবচেয়ে উত্তম। এই ভাইরাস যাতে না ছড়ায় সেই জন্য সাবান দিয়ে ঘনঘন প্রায় ২০ সেকেন্ড হাত ধোত করতে হবে। মুখে মাক্স হাতে গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
আনোয়ারুল হক নিজামী, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী, মীরসরাই,চট্টগ্রাম মোবাইলঃ০১৮১৫৯২৯২৬৬
ইমেলঃ-
anowar.up@gmail.com