ফেনীতে বাড়ছে করোনা রোগী:
ঠেকাতে, দ্রুত ল্যাব স্হাপনের বিকল্প নেই।

মোর্শেদ শিবলী: ফেনীতে ১ দিনেই করোনা পজেটিভ ৩১ জন। ফেনীতে করোনা মহামারী ঠেকাতে ল্যাব স্হাপনের বিকল্প কিছু আছে বলে মনে হয় না। ল্যাব স্হাপন হচেছ করোনাকে আটকে দেয়ার প্রথম ধাপ। অন্য জেলার ল্যাব এর উপর নির্ভর করে আমাদের করোনা ঠেকানো সেচের পানির জন্য নদীতে বাঁধ না দিয়ে সাগরে বাঁধ দেয়ার মতো। ১৬ মে ৩১ জন পজেটিভ এমন না যে এটা ১৬ মে’র রিপোর্ট। এ,রিপোর্ট টা কিন্তু আরো বেশ কয়দিন আগের। আর ১৬ মে”র রিপোর্ট আসবে আরো কয়েকদিন পর। গত ৪ মে ফেনী থেকে নমুনা গিয়েছিল ২২ টা আর ১১ তারিখ সেটা গিয়ে ১০০ প্লাস। দিন দিন নমুনা সংগ্রহ ও করোনা রোগী বাড়ছে। ১ দিনে ৩১ জন করোনা রোগী পাওয়ার নেপথ্যে হচেছ, আমাদের রিপোর্ট প্রাপ্তিতে ধীর গতি। আরো কিছু অসংগতি আছে। যারা করোনা টেস্টে দিয়ে বাড়ীতে যান তারা কয়েকদিন গেলেই বাড়ীর বাইরে ঘুরাফেরা করছেন।কারণ, তারা জানেন না তারা রিপোর্ট কবে পাবেন। তাদের ধারণা তারা ২৪ ঘন্টা পর রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। টেলিভিশনে যখন দেখছেন গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত এত জন, আর তার কাছে কোন ফোন আসেনি তখন তিনি ধরে নেন আমি যদি পজেটিভ হতাম তাহলেতো আমাকে প্রশাসন ফোন ই করতো। আর ফোন না পাওয়ায় ওনারা সকলে ধরে নিচেছন তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ। কারণ হাসপাতালে জানতে চাইলে বলে দেন নেগেটিভ আসলে যোগাযোগ করা হবে না, পজেটিভ আসলে যোগাযোগ করা হবে। কয়েক দিন পর সবাই ধরে নেয় যেহেতু কোন ফোন আসেনি তাহলে আমার ফলাফল নেগেটিভ ই হবে। আর এমনি ধারণা থেকেই সবার ঘুরে বেড়াচেছন। যখন বেশ কয়দিন পর যার পজেটিভ রিপোর্ট আসলো তত দিনে ওনারা শত কনের কাছে করোনা ভাাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর এ ১ জন থেকে দেখুন কি করে ছড়ায়।যদি প্রতি জন থেকে প্রতিদিন ২ জন করে ছড়াতে থাকে তাহলে পরবর্তী ১৪ স্টেপ বা ১৪ দিনে সেই ১ থেকে কত কন দাঁড়াতে পারে সেই চিত্র দেখুন।
১ থেকে ২
২ থেকে ৪
৪ থেকে ৮
৮ থেকে ১৬
১৬ থেকে ৩২
৩২ থেকে ৬৪
৬৪ থেকে ১২৮
১২৮ থেকে ২৫৬
২৫৬ থেকে ৫১২
৫১২ থেকে ১০২৪
১০২৪ থেকে ২০৪৮
২০৪৮ থেকে ৪০৯৬
৪০৯৬ থেকে ৮১৯২
৮১৯২ থেকে ১৬৩৮৪
এ ভাবে জ্যামেতিক হারে বাড়তে বাড়তে এটা মহামারীতে ছড়ায়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ গত ৫০ দিনের চিত্র দেখলে কিছুটা কম ছড়ালেও এটা ভয়ংকর রুপ নিতে সময় লাগেনা। সচেতন না হলে এটা এ হিসাব কেও উলট পালট করে দিতে পারে।
সুতরাং যারা সন্দেহ করছেন তারা টেস্ট করার পাশাপাশি রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাই নয় নিজস্ব ব্যবস্হাপনায় আইসোলিউশনে চলে যান। এ কথা টা এ জন্যই বলছি, কোয়ারেন্টাই বলতে আমরা বুঝি ঘরে থাকতে। না, তাহলেও ছাগলনাইয়ার একই পরিবারে ৬ জন আক্রান্ত এ ঘটনার মতো নিউজের শিরোনাম হতে হবে। সুতরাং জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা সবাই। আসুন সন্দেহ হলে টেস্ট করাই। যারা ইতিমধ্যে করোনা পজেটিভ দের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেছেন তারা কোয়ারেন্টাই এ চলে যান। অসুস্হ বোধ করলে টেস্ট করান আর সাথে সাথে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান ও পরিবারের সদস্যদের টেস্ট করান। আমরা সচেতন না, দিন দিন এটা মহামারীর শেষ সীমানায় চলে যাবে। আর এ মহূ্র্তে ফেনীতে মহামারীর কবল থেকে রক্ষার প্রথম ১ নং হাতিয়ার ল্যাব স্হাপন করে দিনে দিনে টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে করোনা রোগী চিহ্নিত করে ওদের মাধ্যামে যেহেতু আর এভাবে ছড়াতে না পারে তা এখানেই আটকে দেয়া।
আমি ইতি পূর্বে আমার রিপোর্ট প্রাপ্তিতে ১০ দিন লেগে গেলে ৪ দিন থেকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগের মধ্যামে জানিয়ে আসছিলাম যে রিপোর্ট প্রাপ্তির এই বিলম্ব আমাদের জন্য উৎকন্ঠার কারণ। এতে করে করোনা আক্রান্তের হার বাড়বে। আমার এই কথা গুলো ইতিমধ্যে ফেনী র লাখো লাখো মানুষ জানেন। গত কয়দিন থেকে নিউজ ও অনলাইন ছাড়াও লাইভে প্রচারিত হওয়ায় ফেনী র সাধারণ মানুষ ও বুঝে যে ফেনীতে করোনা টেস্ট ল্যাব বা PCR টেস্ট ল্যাব কতটা জরুরী। সবাই এখন একটাই দাবী তুলেছে, ফেনীতে করোনা টেস্ট ল্যাব চাই।
আমি ইতোমধ্যে ফেনীর সিভিল সার্জন মহোদয়,,জেলা প্রশাসক মহোদয়, ফেনী ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনীর অকৃত্রিম বন্ধু
জনাব,,আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম সাহেবের দৃস্টি আকর্ষণ করেছি। উনি আমার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় গত ১৩ মে স্বস্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি লিখেছিলেন, ‘তবে এখন সবাইকে আরো বেশী সাবধান হতে হবে।’জনাব আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ফেনীর অভিভাবক হিসেবে ঐ দিন ই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সাথে ফেনীতে করোনা টেস্ট ল্যাব স্হাপনের বিষয়ে আলাপ করেছেন।
আমি আশা করবো ফেনীর এই করেনা মহামারী ঠেকাতে আমাদের নেতারা ফেনীতে ল্যাব স্হাপন করার সব পদক্ষেপ ই নিবেন।

লেখক
মোর্শেদ শীবলী চৌধুরী
সম্পাদক- আলোকিত বাংলা।