ইতালী

ইতালীতে সিলেট যুব সমাজের বনভোজনে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য।


মেহেনাস তাব্বাসুম শেলি ইতালী প্রতিনিধিঃ
বনভোজনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার দৃশ্যশীত আর বসন্ত মানেই প্রাবাসের মাটিতে বনভোজনের নানা আয়োজন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে প্রবাসের আকর্ষণীয় স্থানগুলো মুখরিত থাকে বনভোজনে আসা মানুষে। বিদেশ বিভুঁইয়েও এসব ভুলে থাকতে পারে না বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ-যুবকেরা। উদ্দেশ্য একটাই এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে অন্তত পরিচিতজনরা একে অন্যের সঙ্গে দেখা করা, ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং ভালো লাগার অনুভূতিগুলো ভাগ করে নিতে পারেন।


ইতালীতে সামার এলেই শুরু হয় বনভোজন আর বনভোজনে নানা পর্বে ফুটে ওঠে আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। একটু ছুটি মানেই আশাতীত আনন্দ। বছরের জুলাই-আগস্টে ইতালী জুড়ে বনভোজনে মেতে ওঠেন বাংলাদেশিরা।


এতে সিলেট যুব সমাজের নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বনভোজনটি পরিচালনা করেন, রেজাউল করিম রিপন, জামিল উদ্দিন, আব্দুল মুকিত, আতিকুল ইসলাম, সফিকুল আলম, শেখ দেলোয়ার, খায়রুজ্জামান, ছয়দুল ছালিক, পারভেজ আহমেদ মিসবাহ, জুনেদ আহমেদ, আমিরুল ইসলাম, জিসান আহমেদ, মান্না আহমেদ সহআরো অনেকেই।

এসময় বৃহত্তর সিলেটবাসীর মুরব্বিয়ানদের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিনার আহমেদ, আব্দুল করিম খায়ের, আব্দুল জলিল হিরা, রানা মিয়া, এম ডি মজির উদ্দিন, এ টি এম শাহজাহান, মুসলিম মিয়া প্রমুখ।

গত ২৬শে আগস্ট রোববার ইতালীস্হ বৃহত্তর সিলেট যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত বনভোজনে এমনই একটি আনন্দঘন দিন পার করেন প্রায় দেরশণত বাঙালি। শিশু থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধসহ সব বয়সীরা আনন্দে মেতে ওঠেন। কেউ গলা ছেড়ে গান আবার পান চিবোতে চিবোতে গল্প করে সময় পার করে দেন।

খাবার দাবারের পাশাপাশি বনভোজনে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নানান খেলাধুলা। এসবের মধ্যে ছিল তরুণ-তরণী মহিলাদের বালিশ নিক্ষেপ ও শিশুদের (ছেলে ও মেয়ে আলাদাভাবে) দৌড় প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া বনভোজনে অংশ নেওয়া তরুণদের আলাদা আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে Lago di scanno এর সংলগ্ন লাগোতে দলবদ্ধভাবে সাঁতার কাটা, পরিবারকে সাথে নিয়ে পানিতে নৌকা, বুট, দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা। শেষ বিকেলে র‌্যাফেল ড্র চলার সময় শত শত জোড়া চোখ তাকিয়ে ছিল ঘোষকের দিকে। র‌্যাফেল ড্রতে বিজয়ীদের মধ্যে টিভি, স্মার্ট ফোন, মাইক্রোওভেন, ফ্যান, নগদ অর্থ সহ নানা ধরনের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সকাল ৯ঘটিকায় রোমের তরপিনাত্তারা সিলেট মিলনায়তন সংলগ্ন একটি পার্কের সামনে থেকে ২টি বাসে চড়ে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ মাড়িয়ে Lago di Scanno
পার্কে পৌঁছেই শুরু হয় ঘোরাঘুরি আর খেলাধুলা।

এর মধ্যে মহিলাদের বালিশ নিক্ষেপ ও শিশুদের দৌড় খেলায় ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। সিলেট যুব সমাজের উদ্যোগে এই বনভোজনে অংশগ্রহণকারীরে বেশির ভাগেরই বাড়ি সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার তরুণেরা অংশ নেন বনভোজনে।

বনভোজনের উদ্যোক্তারা জানান, নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই বনভোজনের আয়োজন। দুইটি বাস ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে প্রায় দের শ জন এতে অংশ নেন। আর ইতালীতে থাকলেও বাঙলার ঐতিহ্যগুলোকে নিজেদের মধ্যে ধারণ এবং নতুন প্রজন্মকে এসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই লোকজ খেলাধুলার আয়োজন। তারা আরো বলেন বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সিলেট যুব সমাজের যাত্রা। পরিশেষে বনভোজনে অংশ গ্রহণ করী সকলকেই তারা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।